লর্ডস টেস্টে রুদ্ধশ্বাস লড়াই করে হেরেছে ভারত। এই টেস্টে ইংরেজ ব্যাটারদের সঙ্গে বচসাতেও জড়িয়ে পড়েন ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে হোম অব ক্রিকেটে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ডিউক বল। যার খুব তাড়াতাড়ি আকার বিচ্যুতি ঘটছে বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে নরমও হয়ে যাচ্ছে বলটি। তবে এ বার হয়ত পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে। চতুর্থ টেস্টের আগে এমনই আপডেট এল সামনে।
ইংল্যান্ডের ডিউক বল বিখ্যাত সুইংয়ের জন্য। বিলেতের মেঘলা পরিবেশে এই বল দিনের যে কোনও সময়ে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে ব্যাটারদের জন্য। এটাই এর বিশেষত্ব। তবে চলতি ভারত ইংল্যান্ড সিরিজে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ অন্য ছবি। এই সিরিজে ১০-১২ ওভার যেতে না যেতেই বল বদলের ঘটনা ঘটছে বারংবার। দুই দলের ক্রিকেটাররাই অভিযোগ করছেন, বল বড্ড তাড়াতাড়ি নরম হয়ে যাচ্ছে। এবং তার আকারও বদলে যাচ্ছে। লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিন আম্পায়ারের সঙ্গে বল নিয়ে তর্কেও জড়িয়েছিলেন অধিনায়ক গিল।
ম্যানচেস্টারে চতুর্থ টেস্টের আগে এই পরিস্থিতিতে অবশেষে মুখ খুললেন ব্রিটিশ ক্রিকেট বলসের কর্ণধার দিলীপ জাজোদিয়া। তিনি জানিয়েছেন, ডিউক বল তৈরির প্রতিটি উপাদানই প্রাকৃতিক। গরুর চামড়া, কর্ক এবং রাবার দিয়ে তৈরি হয় বল। সুতরাং সব সময় এর মান ঠিক রাখা কঠিন। যদিও পাশাপাশি জাজোদিয়া এও জানিয়েছেন, এর আগে ২০২২ সালে কোভিডের কারণে চামড়া উৎপাদনে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এ ছাড়া ভুল রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে একটি খারাপ মানের ব্যাচ তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনা মাথায় রেখে বর্তমানে তাঁরা অনেক বেশি সচেতন।
শুধু ভারতীয় ক্রিকেটাররাই নন। ডিউক বল নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে খোদ ইংরেজদেরও। ১০ ওভার যেতে না যেতেই নতুন বল বদলাতে হচ্ছে। তার ফলে সময়ও নষ্ট হচ্ছে। এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না জো রুট কিংবা প্রাক্তন ক্রিকেটার স্টুয়ার্ট ব্রড। সবার সব অভিযোগের উত্তরে জাজোদিয়া বলেন, “আমি চাইলে বলের কেন্দ্রে একটি পাথর বসিয়ে দিতে পারি। কিন্তু তাতে ব্যাটও ভাঙবে, সেই সঙ্গে আঙুলও।” যদিও তারপরই বল পরিবর্তন করার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “বলের সমস্ত উপাদানই প্রাকৃতিক। তবু আমরা চেষ্টা করব যাতে মান আরও ভাল করা যায়।”
