হাবভাব-চালচলন একদম নবাবী। যারাই দেখেছেন বা পরিচিত হয়েছেন বলেছেন, বাহ দম্পত্তির একটা আলাদা আভিজাত্য আছে। কিন্তু সেই আভিজাত্য যে আসলে অন্যদের কাঙাল করে দেওয়ার টোপ তা এখন হাড়ে-হাড়ে টের পাচ্ছেন আমেরিকার ১০০-রও বেশি নাগরিক। ভারতীয় দম্পত্তি সিদ্ধার্থ ও সুনীতা মুখোপাধ্যায়। আমেরিকায় প্রাবসী বাঙালি মহলে সিদ্ধার্থ স্যামি নামেও পরিচিত। এই দম্পত্তির কবলে পড়ে সর্বশান্ত শতধিক মানুষ। ৩৩ কোটির রিয়েল এস্টেট কেলেঙ্কারিতে দুই দম্পত্তি এখন আমেরিকার আইসিই (ICE) ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি।
শুধু ঠগবাজি নয় এই দম্পত্তির অন্যান্য কীর্তি শুনলে চমকে উঠবেন। জানা গেছে, কোভিডকালীন সরকারি ত্রাণ প্রকল্পের ঋণ হাতানোর জন্য মিথ্যে কাগজপত্রও জমা দিয়েছিল মুখোপাধ্যায় দম্পতি। সেখানে দেখানো হয়েছিল ভুয়ো কর্মচারী ও বেতন সংক্রান্ত তথ্য। ‘গ্রেফতারি হুমকি’ দিয়ে কিছু বয়স্ক নাগরিকদের থেকে টাকাও হাতিয়েছেন দম্পত্তি।
স্থানীয় মিডিয়া ও তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই দম্পতি বিনিয়োগকারীদের রিয়েল এস্টেটের বিনিয়োগের নামে টাকা হাতিয়ে জাল কনট্র্যাক্ট, নকল ইনভয়েস এবং ডালাস হাউজিং অথরিটির নামাঙ্কিত ভুয়ো কাগজপত্র দিত। বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রথমে লভ্যাংশের চেক এলেও পরে তা বাউন্স করতে শুরু করে। এই প্রতারণায় পাওয়া অর্থ ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্টে বা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। শুধু আমেরিকায় নয়, মুম্বাইতেও সিদ্ধার্থর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
২০২৪ সালে এক দম্পতি ৩.২৫ লক্ষ ডলার প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ইউলেস থানার গোয়েন্দা ব্রায়ান ব্রেনান তদন্তে নামেন। পরে তদন্তে যুক্ত হয় এফবিআইও।২০২৪ সালে তাঁরা নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেন। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিলেন সিদ্ধার্থ ও সুনীতা। মার্কিন আইন অনুসারে দোষী সাব্যস্ত হলে মুখোপাধ্যায় দম্পত্তির ৫ বছর থেকে শুরু করে ৯৯ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
