সন্দীপন বিশ্বাস
লক্ষ্য ছাব্বিশ। উপলক্ষ্য একুশ। সেই একুশের মঞ্চ থেকেই মানুষের মধ্যে প্রতিবাদের মন্ত্র ছড়িয়ে দিলেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মুহূর্তে তিনি বাঙালি জাতিসত্তার অভিভাবক। সারাদেশে বিজেপির ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে যেভাবে বাঙালির ওপর নির্যাতন চলছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার এটাই প্রকৃষ্ট সময়। তাছাড়া মহারাষ্ট্র মডেলে ভোটার তালিকায় কারচুপি করে বিভিন্ন রাজ্যজয়ের অপকৌশলের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন মমতা। সোমবার একুশের মঞ্চে আমরা আবার দেখলাম ‘অগ্নিকন্যা’ মমতাকে। আসলে মমতার রাজনৈতিক সত্তার কাঠামোটাই তৈরি হয়েছে বিরোধী নেত্রী হিসাবে। এই সত্তাটির দ্বিতীয় তুল্য কোনো রাজনৈতিক চরিত্র ভারতে নেই।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
১৯৯৩ সালের একুশে জুলাই একজন সাংবাদিক হিসাবে রণাঙ্গনে উপস্থিত ছিলাম। আন্দোলনের ঝাঁঝ, কাঁদানে গ্যাস, গুলির শব্দে খসে পড়া প্রাণ – এসব আজ ইতিহাস হয়ে গিয়েছে। সেদিন বাম প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা ঘটেছিল, সত্যিই তা শিউরে ওঠার মতো। সেদিন থেকেই যেন বদলে গিয়েছিল মমতার আন্দোলনের অভিমুখ। লড়াইকে তীব্র করতে গড়ে তুলেছিলেন নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই ‘৯৩ সাল থেকে লড়াই করে মমতা ক্ষমতায় এসেছেন ২০১১ সালে। অর্থাৎ বাম আমলে ১৮ বছর ধরে তিনিই ছিলেন প্রধান বিরোধী মুখ বা আন্দোলনের অগ্রদূত।

২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আবার তাঁর বিরোধিতার রাজনীতি শুরু হয়। মোদির বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, রাজ্যকে ভাতে মারার কৌশল, বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আটকে দেওয়া নিয়ে তিনি সরব হয় ওঠেন। বারবার তিনি মোদি সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন। একুশের মঞ্চ থেকে তিনি ফের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন। বক্তৃতায় যতটা না সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের হিসাব দিলেন, তার থেকে বেশি তির ছুড়লেন কেন্দ্রের দিকে।
আরও পড়ুন
মমতা আবার প্রমাণ করলেন, বিরোধী নেত্রী হিসাবে তিনি আনপ্যারালাল। আগামী দিনে মমতার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হলে দেখা যাবে প্রশাসক মমতাকে দশ গোল দিয়েছেন বিরোধী নেত্রী মমতা। সেই মতকে আবার প্রতিষ্ঠিত করল এবারের একুশের মঞ্চ। এই ভূমিকায় তিনি যে কতটা স্বচ্ছন্দ ও স্বতঃস্ফূর্ত, তা আবার দেখা গেল। যদিও লক্ষ্য ছাব্বিশের ভোট, তাই এর মধ্যে যে ভোট টানার কৌশলও আছে, তা বলাই বাহুল্য। তবুও আজ সর্বত্র কোণঠাসা বাঙালির হয়ে ময়দানে নেমে সর্বাত্মক লড়াইয়ের ডাক দিয়ে গেলেন মমতা। এটাই তাঁর ইউ এস পি। এটাই তাঁর রাজনৈতিক জিয়নকাঠি।
