সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
রাজ্য সরকারের নয়া বিধিতেই এসএসসি নিয়োগে সিলমোহর দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চে এসএসসি-র এক পরীক্ষার্থীর করা মামলায় গত ৩০ মে রাজ্য সরকারের জারি করা নিয়োগ বিধি খারিজের আবেদন করা হলেও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি। উল্টে মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়ে সরকারি নিয়োগ বিধিকেই মান্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বরং মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানালে বিচারপতির মন্তব্য, ” সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে জুয়া খেলা উচিত নয়। এটা অস্বাস্থ্যকর পদ্ধতি, এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।”
এর অগে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে গত ৩০ মে রাজ্য সরকারের জারি করা নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর নয়া নিয়োগ বিধিকে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। যদিও হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ নিয়োগ বিধির বাকি অংশে হস্তক্ষেপ না করে শুধুমাত্র দাগিদের এই পরীক্ষায় বসতে দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও সিঙ্গেল বেঞ্চের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্য সরকার এবং এসএসসি ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ডিভিশন মেইন সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশকেই বহাল রেখে রাজ্যের আবেদন খারিজ করে। অর্থাৎ রাজ্য সরকারের নয়া নিয়োগবিধি অপরিবর্তিত রেখে শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্ট চিহ্নিত দাগিদের এই পরীক্ষায় বসতে দেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দেয় ডিভিশন বেঞ্চও। এরপর ২০১৬ এসএসসি মামলার এক পরীক্ষার্থী সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের নয়া নিয়োগ বিধি চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সোমবার সুপ্রিম কোর্ট মামলাকারীর আবেদন খারিজ করে রাজ্যের নয়া এসএসসি নিয়োগ বিধিকে মান্যতা দিল।
প্রসঙ্গত, প্রকাশিত নিয়োগ বিধি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, ইন্টারভিউ, ক্লাস করানোর ক্ষমতার ওপর তৈরি হবে প্যানেল। লিখিত পরীক্ষা হবে OMR শিটে, ৬০ নম্বরে। ১০ নম্বর থাকবে শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য। এক্ষেত্রে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর স্তরে ৬০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেলেই ১০ নম্বর পাবেন। ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে নম্বর পেলে ৮ নম্বর ও ৫০ শতাংশের কম পেলে ৬ নম্বর দেওয়া হবে।
শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জন্য ১০ নম্বর, মৌখিক ইন্টারভিউ এর জন্য দশ নম্বর, ক্লাস নেওয়ার দক্ষতার উপর দেওয়া হবে ১০ নম্বর। কর্মরত শিক্ষকদের একাধিক সুবিধা দিয়েছে রাজ্য। সরকারি বা সরকারি নিয়ন্ত্রিত স্কুলে প্রতিবছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জন্য পাওয়া যাবে দুই নম্বর করে। এক্ষেত্রে কারোর পাঁচ বছর বা তার বেশি শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলে মিলবে পুরো ১০ নম্বর। ক্লাস নেওয়ার ক্ষমতার উপর থাকবে ১০ নম্বর। ইন্টারভিউয়ের উপর থাকবে ১০ নম্বর।
আরও পড়ুন
অর্থাৎ কর্মরত শিক্ষকরা এই বাড়তি ৩০ নম্বরের সুবিধা পাবেন নয়া নিয়োগ বিধিতে। আর এখানেই হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে দিদির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অভিজ্ঞতার নিরিখে বাড়তি ৩০ নম্বর পাইয়ে দেওয়া মূলত সুপ্রিম কোর্ট যাদের দাগি বলেছেন্নিত করেছে ঘোরপথে তাদের সুবিধা দেওয়া বলে মনে করেন মামলাকারীরা। এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মোট ৪৪২০৩ জনের পদে নিয়োগ হবে। যার মধ্যে নবম ও দশম শ্রেণীর জন্য ১১৫১৭, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য ৬৯১২ শূন্য পদ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রুপ সি’র জন্য ৫১৭ জন এবং গ্রুপ ডি’র জন্য ১০০০ জনের নতুন পদ তৈরি করা হয়েছে
