বক্তা দিলীপ ঘোষ আবার শিরোনামে। কারণ, এবার তিনি সাংবাদিক ও ইউটিউবারদের ‘বেজন্মা’ আখ্যা দিয়ে গালভরা এক ভাষণের জন্ম দিলেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই ভাষার জন্ম কোথা থেকে? অসহিষ্ণুতার গর্ভে, না কি ক্ষমতা ফসকে যাওয়া হতাশার জরায়ুতে? মাথাবদল, না ভোলবদল?
একটা সময় রাজ্য বিজেপির ‘দমদার’ মুখ ছিলেন দিলীপ ঘোষ। গলা চড়িয়ে বলতেন, মঞ্চ দাপাতেন, হাততালির ঝড় উঠত। আজ সেই হাততালি শোনা যায় না, শোনা যায় কেবল বেসুরো গর্জন। আর সেই গর্জনেই সাংবাদিক ও ইউটিউবারদের ‘বেজন্মা’ বলার মতো কুৎসিত শব্দ ছুঁড়ে দিলেন একসময়ের জনপ্রতিনিধি।
এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, “কিছু ইউটিউবার, কিছু রিপোর্টার, কিছু বুদ্ধিজীবী ইদানিং খুব হিতৈষী হয়ে আছে, বিজেপিকে খুব ভালোবাসে, নিজেদের মা-বাবার থেকেও।” এরপর দিলীপ ঘোষ বলেন “কিছু রিপোর্টার আছে যারা দিলীপ ঘোষ কি বলবে, কোথায় যাবে সেগুলো নিয়ে কথা বলছে”। এরপরে বাংলার ইউটিউবার ও রিপোর্টারদের ‘বেজন্মার দল’ বলে মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। এই লাইনেই ফুটে উঠছে এক তীব্র দহন, ক্ষমতা হারাবার, গুরুত্ব না পাওয়ার, আলো থেকে আড়ালে চলে যাওয়ার। এই বক্তব্য আসলে আত্মরক্ষার ঢাল নয়, বরং নিজেকে রাজনীতির মাঠে বাঁচিয়ে রাখার শেষদিকের চেষ্টামাত্র।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
রাজনৈতিক মহলের কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, দিলীপবাবুকে এখন আর গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে দেখা যায় না, শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে, মোদীর সভাতেও তাঁকে যেন ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না। আর সেই অবহেলার রাগে সাংবাদিক সমাজের ওপর খড়গহস্ত তিনি।এতদিন যিনি মিডিয়ার সামনে কথা বলতে অভ্যস্ত ছিলেন, আজ তিনি মিডিয়াকেই দোষী করছেন, এ যেন ডুবন্ত মানুষ জলে দোষ দেওয়ার মতোই হাস্যকর।
সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুলবে, ইউটিউবাররা বিশ্লেষণ করবে, এটাই তো গণতন্ত্র। কিন্তু যে রাজনীতিক সংবাদমাধ্যমকে এতদিন নিজের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন, আজ তিনি সেই অস্ত্রকেই পুড়িয়ে ফেলছেন কুৎসিত গালিগালাজের আগুনে।এটা কি মাথাবদল? না ক্ষমতা হারানোর পর এক প্রকার ভোলবদল?
আরও পড়ুন
সাংবাদিকদের তরফে এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটা শুধু গালাগাল নয়, এটা সংবিধানকে গালি দেওয়া। কারণ, বাকস্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশকে এভাবে অপমান করা মানেই গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।
রাজনীতির চূড়ায় উঠে আজ যদি কেউ এভাবে নিচে নামেন, তাহলে সেটাও ইতিহাসে লেখা থাকবে। কারণ, ‘বেজন্মা’ শব্দে নিজেকে বাঁচানো যায় না, বরং তা ইতিহাসের পাতায় একজন নেতার পতনের ভাষা হয়ে রয়ে যায়। আর হ্যাঁ, শব্দের জোরে ক্ষমতা ফেরে না, বরং ভাষার পতন ক্ষমতার পরিণতির ইঙ্গিত দেয়।
