সীমান্ত বিরোধের জেরে তীব্র লড়াই চলছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে। এই লড়াইয়ের জেরে থাইল্যান্ডে অন্তত ৯ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি ২ সেনা আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া দুই দেশই তাদের সীমান্ত বন্ধ করার পাশাপাশি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে।
প্রসাত তা মুয়েন থমের কাছে নতুন করে সীমান্ত সংঘর্ষের পরই দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। প্রসাত তা মুয়েন থম হল থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব সুরিন প্রদেশে অবস্থিত একটি মন্দির। কম্বোডিয়ার দাবি, এই মন্দিরের মালিকানা তাদের। নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার পর থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে এফ-১৬ যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করেছে। থাই সেনাবাহিনীর দাবি, প্রসাত তা মুয়েন থম মন্দিরের পূর্ব দিকে কম্বোডিয়ান বাহিনী গুলি চালানোর পর নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। সীমান্তবর্তী ৮৬টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার থাই সাধারণ নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
অন্যদিকে, সীমান্তে এই সংঘাত নিয়ে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বিবৃতিতে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে আগে হামলা চালানোর অভিযোগ এনেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর হামলার পরই কম্বোডিয়ার সেনারা আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা জবাব দিয়েছেন। গত সপ্তাহে স্থল-মাইন বিস্ফোরণের জেরে পাঁচজন সৈন্য আহত হওয়ার পর উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই মাসের শুরুতে একই রকম একটি ঘটনা ঘটেছিল। থাই কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নিরাপদ বলে পরিচিত রাস্তায় মাইন পুঁতে রেখে কম্বোডিয়া তাদের পারস্পরিক চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
এই মাইন বিস্ফোরণের প্রতিবাদে থাইল্যান্ড কম্বোডিয়া থেকে তার রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি থাই সরকার ব্যাংককে নিযুক্ত কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূতকেও বহিষ্কার করেছে। যদিও কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডের এসব দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং একই সঙ্গে সমস্ত থাই কূটনৈতিক কর্মীকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলেছে।
আরও পড়ুন
তবে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার এই সীমান্ত সমস্যা নতুন নয়। এর আগেও বারবার এই সমস্যা হয়েছে। মাইন বিস্ফোরণের জেরে থাইল্যান্ড বুধবার উত্তর-পূর্ব দিক থেকে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতেও সীমান্ত অঞ্চলে গোলাগুলি চলে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাদের মধ্যে।
