দুদিনের সফরে মালদ্বীপ পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এটি মোদির তৃতীয় বার ওই দ্বীপরাষ্ট্রে সফর হলেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে মহম্মদ মুইজ্জুর দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম সফর। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মালদ্বীপের এক নেতার অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে দুদেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে ভারত বিদ্বেষী বলে পরিচিতি পাওয়া প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জুর গত বছর অক্টোবরে ভারত সফরে এলে ফের সম্পর্কের উন্নতি হয়। এদিন বিমানবন্দরে সেদেশের ঐতিহ্যবাহী গান, নৃত্য এবং ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি নিজে। এই উষ্ণ অভ্যর্থনাকে ভারত ও মালদ্বীপের ক্রমবর্ধমান সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতিফলন বলেই মনে করা হচ্ছে।
দুদিনের এই সফরে মালদ্বীপের ষাটতম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মোদি। হিসেবমতো ভারত এবং মালদ্বীপের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ষাটতম বার্ষিকীও এই বছর। মুইজ্জুরের ভারত সফরের সময় দুদেশের বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার অংশীদারিত্ব নিয়ে গৃহীত হওয়া কর্মসূচির অগ্রগতি দুই রাষ্ট্রনেতা যৌথভাবে পর্যালোচনা করবেন বলে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বেশকিছু দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সমঝোতা স্মারকপত্র ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি হবে বেশ কিছু পরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্পের সূচনাও।
এবছর কেন্দ্রের বাজেটে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলির মধ্যে উন্নয়ন সহায়তায় মালদ্বীপের বরাদ্দ সবথেকে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত ও মালদ্বীপ বহুদিন ধরেই ঘনিষ্ঠ জাতিগত, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে আবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দিল্লির ‘প্রথম প্রতিবেশী’ নীতির পাশাপাশি ভারত মহাসাগর অঞ্চলে সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশলগত দিকগুলো দৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
