সাধারণত পৃথিবীর সবচেয়ে বস্তু হিসেবে আমরা হিরে বা সোনার মতো ধাতুর নামই জানি। এবার বলি ভুল জানেন। হিরে বা সোনার থেকেও মূল্যবান বস্তু হল একরকম কাঠ। ভাবছেন নিশ্চই চন্দন কাঠের নাম বলব। অর্ধেক ভুল। কাঠ অবশ্যই কিন্তু চন্দন নয়। পৃথিবীর মূল্যবান ও দামি জিনিস হিসেবে রেকর্ড তৈরি করছে আরেক ধরনের কাঠ।
শুনলে চমকে উঠবেন এই কাঠের দাম প্রতি কেজি ১ লক্ষ টাকারও বেশি। বিশেষ এই কাঠের নাম ‘আগরউড’। এটিকে ‘ওড’ও বলা হয়।
সাধারণ কাঠের যে কোনও প্রজাতির তুলনায়, এটি খুবই অনন্য। চমৎকার সুগন্ধির অধিকারী বিরল এই কাঠ। আগরউডের অনন্যতা ও অসাধারণ গুণ শুনলে চমকে যাবেন। এই বিশেষ গুণই এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল উপাদানগুলির মধ্যে একটি করে তুলেছে।
বস্তুত অ্যাকুইলারিয়া নামক এক ধরনের ছত্রাক গাছে আক্রমণ করলে তবেই এই আগরউড উৎপন্ন হয়। ছত্রাক থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য, গাছটি একটি কালো, সুগন্ধযুক্ত রজন তৈরি করে। একেই আগরউড বলা হয়। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে অনেক বছর সময় লাগে। তাই এটি খুবই বিরল।
সোনা, রূপা এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর তুলনায় আগর কাঠের দাম বেশি। বলা হয় এর দুষ্প্রাপ্য হওয়ার কারণে এবং রজন উৎপাদন প্রক্রিয়া খুবই ধীর গতিতে হওয়ায় এটি এত মূল্যবান। বাজারে উচ্চ চাহিদার কারণে এই কাঠের দামও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আগর কাঠ মূলত ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির বনাঞ্চলে পাওয়া যায়। এইসব দেশের অরণ্য অঞ্চলে
আগর কাঠ খুব অল্প পরিমাণে পাওয়া যায়। এই কাঠগুলির সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার।
ওউড.. আতর বিশ্বের সবচেয়ে দামি সুগন্ধিগুলির মধ্যে একটি। এর সুগন্ধি সারা বিশ্বে বিখ্যাত। কেবল সুগন্ধিতেই নয়, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং ধ্যানেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই আতর মনকে শান্তি প্রদান করে বলে বিশ্বাস করা হয়। তাছাড়া, আয়ুর্বেদে, এটি মানসিক চাপ, অনিদ্রা এবং হজমের সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। যেহেতু এর এত ব্যবহার রয়েছে, তাই এর দাম ক্রমশ বাড়ছে।
সংরক্ষণ একটি চ্যালেঞ্জ:
আগর কাঠের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটি চাষেরও প্রচেষ্টা চলছে দেশে দেশে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষকরা অ্যাকুইলা অ্যাকুইলারিয়া গাছ চাষ করছেন এবং কৃত্রিমভাবে ছত্রাক দ্বারা সংক্রামিত হয়ে আগর কাঠ উৎপাদন করছেন।
