নিজে অসুস্থ হন বা বাড়ির কেউ, চিকিৎসা করতে যে হারে খরচ হয়, তাতে মাথায় হাত ওঠা স্বাভাবিক। দেশের আম জনতার আবার সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ভরসা কম। তার কারণও অবশ্য আছে। অগত্যা দৌড়তে হয় প্রাইভেট নার্সিংহোমগুলিতে। আর এখানেই সর্বস্বান্ত হওয়া শুরু। সাধারণ মানুষের এই অবস্থার কথা চিন্তা করেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। দেশের সব নাগরিককে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার প্রচারও করেছেন তিনি নিজেই। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সেই প্রকল্পেরই বেহাল অবস্থা। তাতে আস্থা রাখতে পারছে নাং দেশের নানান বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। কারণ, কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে বকেয়ার পরিমাণ ১.২১ লক্ষ কোটি টাকা!
যদিও এরকম স্বাস্থ্য পরিকল্পনার পথিকৃৎ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। বাংলার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অনুকরণে ২০১৮ সালে দেশজুড়ে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যার মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পান গ্রাহক। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৪১ কোটি আয়ুষ্মান ভারত কার্ড তৈরি হয়েছে।
ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) জানিয়েছে, চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা আজও মেটায়নি কেন্দ্র। ফলে এখন বকেয়ার বোঝা ১.২১ লক্ষ কোটি। বাস্তব বলছে, মোটে ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ১৫ দিনের মধ্যে চিকিৎসার খরচ পাওয়া যাচ্ছে। বাকি টাকা পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৬৭ লক্ষ রোগীকে পরিষেবা দেওয়ার পরও টাকা পায়নি হাসপাতালগুলি।
রিপোর্ট বলছে, প্রতি বছর আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে নথিভুক্ত হাসপাতালের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমছে। একে তো চিকিৎসার খরচ যা, তার তুলনায় অত্যন্ত কম দর দিচ্ছে কেন্দ্র, অন্যদিকে সেই টাকা মেটাতেও অস্বাভাবিক দেরি করা হচ্ছে সরকারের তরফে। যার জেরে সাধারণ মানুষকে এই প্রকল্পের সুবিধা দিতে সমস্যার মুখে পড়ছে তারা।
উল্লেখ্য, বাংলায় বিশেষ সুবিধাভোগী সরকারি চাকুরিজীবী ছাড়া যে কেউ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পান।
