আজকাল আমরা অনলাইন শপিং অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই কেনাকাটা করতে পারি। ব্যস্ত জীবনে দারুণ মাধ্যম অনলাইন শপিং। কিন্তু কখনও কখনও প্রশ্ন ওঠে, এটা কি নিরাপদ? কারণ কোনও ই-কমার্স অ্যাপ নিজেই পণ্য সরবরাহ করে না। বরং সেখানে অনেক বিক্রেতা থাকেন, যাঁরা ওই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পণ্য বিক্রি করেন।
এই ধরণের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে অনেকেই প্রতারকও হতে পারে। অনেকেই আছেন যাঁরা প্রিপেইড অর্ডার দেন, কিন্তু তাঁরা বুঝতে পারেন না, সেই বিক্রেতা আসল না ভুয়ো! এই সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়া কি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব নয়? উঠছে প্রশ্ন।
এরকমই একটি ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে ফ্লিপকার্টের এক ভুয়ো বিক্রেতার ফাঁদে পড়ে এক ব্যক্তি ২২,০০০ টাকা খুইয়েছেন। রেডিটে সেই পুরো ঘটনাটি শেয়ার করেছেন তিনি। তিনি লিখেছেন, “বছর তিনেক আগের ঘটনা, আমি ফ্লিপকার্ট থেকে ২২,০০০ টাকার একটি ওয়ারড্রোব কিনেছিলাম। অনলাইনে সম্পূর্ণ টাকা দিয়ে এটি অর্ডার করি। ডেলিভারির তারিখ এক মাস পরে ছিল, তাই আমি অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু সেই পার্সেলটি আমার কাছে পৌঁছয়নি।”
তিনি আরও জানান, “কয়েক মাস পর যখন আমি ফ্লিপকার্টের গ্রাহক সহায়তায় যোগাযোগ করি, তারা বলে, এটি বিক্রেতার গাফিলতি কেননা পার্সেলটি ডেলিভারির জন্য তাকে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবারই আমাকে একই উত্তর দেওয়া হয়েছিল। আমি প্রায় ছয় মাস অপেক্ষা করেছিলাম, কিন্তু কোনও আপডেট পাওয়া যায়নি এবং পার্সেলটি আমি আর পাইনি।”
এরপর ওই ব্যক্তি, কনজিউমার কোর্টে অভিযোগ দায়ের করেন। এর জবাবে, তিনি ফ্লিপকার্ট থেকে একটি আইনি নোটিস পান। নোটিসে বলা হয়েছে, তাদের নীতিতে এই ধরনের সমস্যার জন্য কোনও নিয়ম নেই, কারণ এটি সরবরাহকারীর ব্যাপার, ফ্লিপকার্টের নয়। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তারা বাধ্য নয়। এইভাবে, ওই ক্রেতা ২২,০০০ টাকা খুইয়েছেন।
প্রতারণার এই পোস্টটি রেডিটে ভাইরাল হয়। অনেকেই অনেক আইনি পরামর্শ দেন ওই ব্যক্তিকে। কেউ বলেন, ‘আপনার উচিত ছিল এই মামলাটি নিজে লড়াই করার পরিবর্তে একজন আইনজীবীর কাছে যাওয়া।’ আরেকজন ব্যবহারকারী বলেন, ‘আপনি গ্রাহক সুরক্ষা আইনের অধীনে প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে একটি মামলা করতে পারেন।’ একই সঙ্গে কেউ বলেন, ‘আমরা অ্যাপ এবং অর্ডারকে বিশ্বাস করি, বিক্রেতাকে নয়, কিন্তু প্ল্যাটফর্মটি গ্রাহকের সঙ্গে এমন আচরণ করে, এটা ঠিক নয়।’ তাই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে কিছু অর্ডার দেওয়ার আগে সাবধান থাকুন সতর্ক থাকুন।
