বাংলাদেশে বহু আলোচিত ও বহু কাঙ্ক্ষিত জুলাই সনদের প্রাথমিক খসড়া তৈরি হয়ে গেছে বলে জানিয়ে দিলেন সেদেশের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলি রিয়াজ। এই তথ্য দিয়েছে ডেইলি স্টার। রবিবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।
আলি রিয়াজ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের দলের মধ্যে আলোচনা করে মতামত জানালে সেগুলো এতে সন্নিবেশিত করা হবে। তবে বড় ধরনের কোনও মৌলিক আপত্তির বিষয় সামনে না এলে তা নিয়ে বৈঠকে আর আলোচনা করা হবে না।
কিন্তু কী এই জুলাই সনদ? গত বছর পাঁচই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ৩১ ডিসেম্বর জুলাই প্রোক্লেমেশন বা গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে চেয়েছিল। যদিও পরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্র দেওয়ার কথা বলা হয়। সরকারের আশ্বাসে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসে শিক্ষার্থীরা।
গত ছয়ই জুন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস জানান, “জুলাই সনদ হলো একটি প্রতিশ্রুতি। একটা জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য সংস্কার কমিশন যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছে, সেগুলোর মধ্য থেকে রাজনৈতিক দলগুলো যে ক’টিতে একমত হয়েছে, তার তালিকা থাকবে এই সনদে।”
বিবিসি বাংলার দেওয়া তথ্য অনুসারে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্র সংস্কারে ১১টি কমিশন গঠন করে।এই সব কমিশনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করেছে ঐকমত্য কমিশন। গুরুত্বপূর্ণ এইসব প্রস্তাবে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সহমত হওয়ার পরই তৈরি হচ্ছে জুলাই সনদ।এই জুলাই সনদ দ্রুত প্রণয়ন করে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থার পাশাপাশি সাধারনের কাছেও কাজের সরকার হয়ে উঠতে চাইছে ইউনূস প্রশাসন।
Leave a comment
Leave a comment
