পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গ্রুপ লিগের ম্যাচে যে পথে হেঁটেছিলেন ভারতীয় প্রাক্তনীরা, সেমি ফাইনালেও সেই একই পথে হাঁটতে চলেছেন তাঁরা। অর্থাৎ বয়কটের পথ। মঙ্গলবার ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসের মরণ-বাঁচন ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নের বিরুদ্ধে এক অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নিয়েছে যুবরাজ সিংয়ের সঙ্গে ইন্ডিয়া চ্যাম্পিয়ন্স। তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় সেমিতে ভারত-পাক দ্বৈরথ। তবে সূত্রের খবর, গ্রুপ লিগের মতো সেমিফাইনালেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে চাইছেন না একাধিক ভারতীয় ক্রিকেটার। ফলে বাতিল হয়ে যেতে পারে এই ম্যাচ।
ভারতকে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। এই বিষয়টি নিশ্চিত হতেই বিতর্কের মেঘ যখন নতুন করে দানা বাঁধতে শুরু করে, ঠিক তখনই এক চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত নেয় ভারতের একটি স্পনসরকারী সংস্থা। Ease My Trip নামক উক্ত সংস্থা জানিয়ে দেয়, চলতি ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসে আর তারা ভারতের স্পনসর থাকছে না। মঙ্গলবার সকালেই সংস্থাটির কর্ণধার নিশান্ত পিট্টি সমাজ মাধ্যমে লেখেন, “পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন সেমিফাইনাল কেবল একটি ম্যাচ নয়। ক্রিকেট এবং সন্ত্রাসবাদ হাতে হাত মিলিয়ে চলতে পারে না। আমরা ভারতের সঙ্গে আছি। কিন্তু সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করে এমন একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে এমন কোনও ইভেন্টকে সমর্থন করতে পারি না।”
এই ঘটনার পরই জল্পনা তৈরি হয়েছিল বৃহস্পতিবার বার্মিংহামের ভারত-পাক দ্বৈরথকে ঘিরে। অবশেষে অবসান ঘটতে চলেছে সেই জল্পনার। উক্ত সূত্রটি জানিয়েছে, পহেলগাঁওয়ে হামলার প্রতিবাদে গ্রুপ লিগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে বয়কটের পথে হেঁটেছিলেন শিখর ধাওয়ান, হরভজন সিং, পাঠান ভাইরা। সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও একই নীতি অবলম্বন করতে চলেছেন ভারতের ‘বুড়োরা’ । বেশিরভাগ ক্রিকেটারই এই ম্যাচ খেলতে আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে কার্যত ভেস্তে যাওয়ার পথে বার্মিংহামের প্রথম সেমিফাইনাল।
গ্রুপ লিগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই প্রথম ম্যাচ খেলার কথা ছিল ইন্ডিয়া চ্যাম্পিয়ন্সের। কিন্তু ম্যাচের আগে খেলাটি বাতিলের অনুরোধ জানিয়ে আয়োজকদের একটি চিঠি লিখেছিলেন শিখর ধাওয়ান। এরপর একে একে এই ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ান সুরেশ রায়না, ইউসুফ পাঠান, ইরফান পাঠান, হরভজন সিংরাও। আর তারপরই ম্যাচ বাতিলের ঘোষণা করা হয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে। কিন্তু এ বার লড়াইটা সেমি ফাইনালে। ভারত যদি সত্যি সত্যিই ম্যাচ বয়কট করে। আর তার জেরে যদি সত্যিই বাতিল হয়ে যায় সেমি ফাইনালে, তখন কী হবে প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ?
গ্রুপ লিগের ম্যাচ বাতিল হওয়ার পর পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স দলের মালিক কামিল খান জানিয়েছিলেন, নক আউট পর্বে যদি দু’দল ফের মুখোমুখি হয়ে যায় সেক্ষেত্রে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই ব্যবস্থাই এ বার নেওয়া হতে চলেছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। ভারত যদি ম্যাচ বয়কট করে তা হলে পাকিস্তানকে এক রকম ওয়াক ওভারই দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। কারণ চলতি টুর্নামেন্টে একটিও ম্যাচ হারেনি শাহিদ আফ্রিদির দল। ফলে সেমিফাইনাল বাতিল হয়ে গেলে নিয়মানুসারে সরাসরি ফাইনালে পৌঁছে যাবে তারা। অন্যদিকে ম্যাচ না খেলেই বিদায় নিতে হবে ভারতকে।
