পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে তোল্লা দিয়ে কোন পথে হাঁটছেন ট্রাম্প?
বন্ধু দেশ হলেও ভারতের উপর ২৫ শতাংশ চাপিয়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর ২০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে পকিস্তানের উপর আরও কম ১৯ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক প্রশাসনিক আদেশে বিভিন্ন দেশের উপর নতুন হারে শুল্ক বসিয়েছেন।
বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর শুল্ক চাপানো নিয়ে এই মুহূর্তে সরগরম গোটা বিশ্ব। আমেরিকার অধিপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প কোন দেশের উপর কোন কারণে কত শুল্ক চাপালেন, তাই এখন চর্চার বিষয়। কেন এই মুহূর্তে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কে না থাকা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের উপর তিনি কম ট্যারিফ চাপালেন তা নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
আমেরিকার বারণ না মেনে রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কিনেই নিজেদের চাহিদা মেটাচ্ছিল ভারত। এটা মোটেও ভালোভাবে নেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। তাই দিল্লিকে তেল নিয়ে চিরশত্রু পাকিস্তানের খোঁচা দিতে ছাড়েননি ট্রাম্প। পুরনো বন্ধু পাকিস্তানের সঙ্গেই তেল চুক্তি করেছেন তিনি। পাশাপাশি কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মতো জানিয়েছেন যে পাকিস্তান এখন ভারতে তেল বিক্রি করতে পারবে। পহেলগাঁও কাণ্ডের পর ভারত বিরোধিতাকে কাজে লাগিয়ে এবং শুল্ক কমিয়ে কৌশলে চীনকে সরিয়ে ট্রাম্প পাকপন্থী পথ বেছে নিচ্ছেন বলেও মনে করা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে ট্রাম্পের দিল্লি বিরোধিতার আরও একটি অনুমান করা হচ্ছে। সেটা হল ভারত বিশ্বের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি। ভবিষ্যতে এশিয়ায় চীন ও ভারত হয়ে উঠতে চলেছে আমেরিকার বড় অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করেছেন যে, ভারত আমেরিকার পণ্যে অনেক বেশি শুল্ক ধার্য করে। মনে করা হচ্ছে এই যুক্তি সামনে রেখেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে সুবিধে দিয়ে চীনের সঙ্গে দিল্লিকেও চাপে রাখতে চাইছে আমেরিকা।
প্রশ্ন উঠছে, তবে বাংলাদেশকে কেন এত শুল্ক ছাড় দিল ট্রাম্পের দেশ? যদিও এর আগে বাংলাদেশকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছিল, তাদের পণ্যের উপর ৩৫ শতাংশ হারে শুল্ক বসবে। নতুন নির্দেশে সেই শুল্কের হার ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ছাড় এবং পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে নরম নীতির তালিকায় রাখার পিছনে ট্রাম্পের চীন ভাবনাও কাজ করছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কারণ হাসিনা হীন বাংলাদেশে ভোট হলে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারে এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরবর্তী সরকারের কথা মাথায় রেখেই বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ, বৈঠক, আলোচনা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে বেজিং। দক্ষিণ এশিয়ায় এমন নরম মাটিতে চীনের পদক্ষেপ ঠেকাতেই কম শুল্কের ঝুলি নিয়ে ‘ডন’ এর এগিয়ে আসা বলেই সমীকরণ কষছেন অনেকে।
তবে নীতি ঠিক করার ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসা ট্রাম্পের তুলনা তিনি নিজেই। ট্রাম্প প্রায়শই মিডিয়ায় বড় দেশ ও নেতাদের সমালোচনা করে নিজের কড়া অবস্থান দেখাতে চান, যা তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকদের বেশ পছন্দ। তাই ভারতের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে চাপ সৃষ্টি করেও অন্যদিকে কিছু ছাড়ের ক্ষেত্র খোলা রাখা হতেই পারে। সবকিছুই ট্রাম্পের ‘ডিল-মেকিং’ কৌশলের আওতায় পড়ে। সেটা অবশ্য দিল্লি কীভাবে ট্রাম্পের ছোঁড়া বলে ব্যাটিং করে তার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে। তবে ভবিষ্যতে তাঁর এই পদক্ষেপ ব্যুমেরাং হতে পারে বলে অপর একটি সমীকরণে বলা হয়েছে।
