বিহারে সংশোধিত ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং ৩৮ জন ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের কাছে রাজ্যের ২৪৩টি বিধানসভা আসন এবং ৯০, ৮১৭টি বুথের খসড়া ভোটার তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ জুন জাতীয় নির্বাচন কমিশন বিহারের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন করার কথা ঘোষণা করে। প্রচুর মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। কমিশন জানিয়েছে, বিহারের ৭.৮৯ কোটি ভোটারের মধ্যে ৭.২৩ কোটি মানুষ নথি জমা দিয়েছেন। মৃত, অন্য জায়গায় চলে গেছেন, একাধিক কেন্দ্রে নাম নথিভুক্ত রয়েছে অথবা ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি এমন প্রায় ৬৪ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তালিকা থেকে।
নতুন তালিকা নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কমিশনের কাছে আবেদন জানানো যাবে। তালিকায় নাম তুলতে গেলে কমিশনের বেঁধে দেওয়া ১১ ধরনের পরিচয়পত্রের তালিকার মধ্যে থেকে উপযুক্ত নথি ও তথ্য জমা দিতে হবে। ওই তথ্য খতিয়ে দেখার পর আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, রাজ্যের যে কোনও ভোটার বা রাজনৈতিক দল এই খসড়া তালিকার নিয়ে কোনওরকম অভিযোগ থাকলে তা দায়ের করতে পারবেন।
ইতিমধ্যেই ১১টি পরিচয়পত্রের তালিকার মধ্যে ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড আর আধার কার্ড না থাকা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এই সংক্রান্ত মামলাতে সংশোধনী প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ না দিলেও কেন এই তিনটি পরিচয়পত্র গ্রাহ্য করা হবে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং কমিশনকে পুনরায় বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে।
বিহার বিধানসভা এবং সংসদে এসআইআর ইস্যুতে লাগাতার বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বিরোধী দলগুলি। বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব ইতিমধ্যেই প্রয়োজনে ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই এই নিয়ে একজোট বিরোধীপক্ষ। আলোচনার দাবিতে বিরোধীদের হইচইয়ের ফলে প্রতিদিনই মুলতুবি হয়ে যাচ্ছে দুই কক্ষের অধিবেশন। হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান নিয়ে সংসদ ভবনের মকরদ্বারের সামনে একজোট হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিরোধী শিবিরের সংসদরা। খসড়া তালিকা নিয়ে আলোচনার দাবিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠিও দিয়েছেন বিরোধীরা। এই ইস্যুতে ফের একজোট হতে দেখা যাচ্ছে ইন্ডিয়া জোটকে।
