২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়িত হবে। কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্যের বরাদ্দ করা টাকাতেই ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান-এর বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী ৫ আগস্ট ঘাটাল সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগেই ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে এই ভবিষ্যদ্বাণী করলেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস রঞ্জন ভূঁইয়া।
শুক্রবার সল্টলেকের জলসম্পদ ভবনে সেচমন্ত্রী জানান, মেদিনীপুর সহ ঘাটাল মূলত সাঁড়াশি আক্রমণের শিকার। একদিকে ডিভিসির ছাড়া জল, অন্যদিকে গালুডি জলাধার থেকে আসা জল এবং প্রকৃতির দান অতিবৃষ্টির জেরে মেদিনীপুর সহ ঘাটালে “ডুবছে মানুষ, ডুবছে ঘরবাড়ি, ডুবছে ক্ষেতের ফসল।” ডিভিসিকে বারংবার অপরিকল্পিতভাবে জল যাতে না ছাড়া হয় সে বিষয়ে জানিয়েও কোনও ফল হয়নি বলেও অভিযোগ জানান মানসবাবু। সেচমন্ত্রী বলেন, “মেদিনীপুর জেলার সব নদীই ফুলেফেঁপে উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকার ঘাটাল মাস্টারপ্লানে রাজ্যকে বঞ্চিত করলেও রাজ্য সরকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এর জন্য রাজ্য বাজেটে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। যার মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের টাকায় বিশেষ পরিকল্পনা ও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান-এর কাজ শুরু হয়েছে যার জন্য সেচ দপ্তরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আধিকারিক থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সমস্ত আধিকারিক, পরিকল্পনাবিদ ও স্থানীয় ত্রিস্তর পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধায়ক ও নেতৃত্বরা একযোগে কাজ করছেন।” মানসবাবুর আক্ষেপ, গত ২৬ বছরে এভাবে লাগাতার বৃষ্টি এবং একই সঙ্গে জলাধারের ছাড়া জলে আক্রান্ত হয়নি মেদিনীপুর সহ ঘাটাল এলাকা। তবুও যথাযথ পরিকল্পনা উপযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান এর কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছে রাজ্য সেচদপ্তর। আগামী ৫ আগস্ট ঘাটালে গিয়ে এই মাস্টারপ্ল্যানের কাজ কেমন চলছে, তা যেমন তিনি পরিদর্শন করবেন একইসঙ্গে ঘাটালের জলবন্দী পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখবেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
সেচমন্ত্রী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জলবন্দি মানুষজনকে জল থেকে তুলে ত্রাণ শিবিরে থাকার ব্যবস্থার পাশাপাশি তাঁদের পানীয় জল ওষুধ এবং খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৪৫০ জন গর্ভবতী মহিলার মধ্যে ৩৫২ জনের প্রসব করানো হয়েছে ঘাটাল হাসপাতালে। ১৫২ জন মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হলেও কারও মৃত্যু হয়নি বলেও দাবি করেছেন সেচমন্ত্রী।
