৫ আগস্ট বাংলাদেশে গণ অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি। ২০২৪-এর ৫ অগস্ট গণ আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু তারপরেও দেশছাড়া হাসিনার দাবি, তিনি এখনও দেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী। কারণ তিনি পদত্যাগ করেননি। তাঁকে জোর করে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। মঙ্গলবার দলের ফেসবুক পেজে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণও দেবেন হাসিনা। বাংলাদেশের সময় রাত সাড়ে নটায় ভাষণ দেবেন নেত্রী। ৫ অগস্টকে গণতন্ত্র ও ছাত্র-জনতা-পুলিস হত্যা দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লিগ।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যা করা হয়েছিল। আওয়ামি লিগ জমানায় আগস্ট বাংলাদেশে শোকের মাস হিসাবে পালিত হতো। কিন্তু গত বছর থেকে তা বদলে গিয়েছে। দিনটি ইউনূস সরকার পালন করেনি। তবে এই এক বছরে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। অভিযোগ, ইউনূস সরকারর আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, খুনজখম, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, পিটিয়ে হত্যার মতো অপরাধ বেড়েছে। সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। বেড়েছে জঙ্গিদের আস্ফালন। সব মিলিয়ে দেশের পরিস্থিতি এক বছর আগের তুলনায় আরও খারাপ হয়েছে।
অন্যদিকে সমালোচনাকে আমল দিতে নারাজ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। তাই ৫ আগস্ট মঙ্গলবার গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিনটি উৎসবের মেজাজে পালন করছে ইউনূস সরকার। সকাল থেকেই ঢাকা সহ বিভিন্ন শহরে শুরু হয়েছে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেলে সংসদ ভবন লাগোয়া এলাকায় জনসমাবেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। তিনি জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন। যা আদতে ২০২৪-এর গণ বিপ্লবের একটি দলিল। সেই ঘোষণাপত্র সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আওয়ামী লিগ বিরোধী বেশিরভাগ দল তাতে সম্মতি দিয়েছে বলে সরকারের দাবি। যদিও সূত্রের খবর, বিএনপি-সহ বেশ কয়েকটি দল জুলাই বিপ্লবকে সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষপাতী নন।
তবে এই খসড়া প্রস্তাব গৃহীত হলে বাংলাদেশের সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধের পর জুলাই বিপ্লব অর্থাৎ হাসিনা সরকারের পতনের পর্ব অন্তর্ভুক্ত হবে। স্বাধীন বাংলাদেশে অতীতে কোনও সরকারের জমানার কালিমালিপ্ত ইতিহাস সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আওয়ামী লিগকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং ভবিষ্যতে ওই দল যাতে আইনি পথে বৈধতা না পায়, সে জন্যই ওই সংবিধানে গণ অভ্যুত্থানকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব খসড়ায় রাখা হয়েছে। ইউনূস সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে চাপা অসন্তোষ। এরই মধ্যে শেখ হাসিনার এ দিনের মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
Leave a comment
Leave a comment
