প্রয়াত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের শেষ রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক। মঙ্গলবার দুপুর ১টায় দিল্লির রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৭৯। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। প্রসঙ্গত, সত্যপাল জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের রাজ্যপাল থাকার সময়েই ২০১৯-এর ৫ অগস্ট ৩৭০ ধারার বিলোপ ঘটায় নরেন্দ্র মোদি সরকার। প্রত্যাহার করা হয় জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা। পূর্ণ রাজ্যের তকমাও হারায় জম্মু-কাশ্মীর।
২০১৮ -র অগস্ট থেকে ২০১৯ এর অক্টোবর পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল ছিলেন সত্যপাল। তাঁর আমলেই জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতা প্রত্যাহার করে মোদি সরকার । সে সময় সত্যপাল জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার তিনি দাবি করেছিলেন, ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের আগে কেন্দ্র তাঁকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।
সত্যপাল তিন বার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে অল্প দিনের জন্য তিনি বিহারের রাজ্যপাল হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে ওড়িশার রাজ্যপালের অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলেছেন। জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল পদ সামলানোর পর তাঁকে গোয়া এবং মেঘালয়ের রাজ্যপাল পদেও নিয়োগ করা হয়েছিল।
ছয়ের দশকে ছাত্র রাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু সত্যপালের। পরবর্তী ক্ষেত্রে একাধিকবার দল পরিবর্তন করেছেন তিনি। চৌধুরী চরণ সিংয়ের ভারতীয় ক্রান্তি দলে যোগ দিয়ে শুরু করেন পথ চলা। এরপর কংগ্রেস পরে ভি পি সিংয়ের হাত ধরে জনতা দলে যোগ দেন। ২০০৪ সালে তিনি যোগ দেন বিজেপিতে। ১৯৭৪ সালে উত্তরপ্রদেশের বাঘপত আসন থেকে বিধানসভা ভোটে লড়ে জয়ী হয়েছিলেন সত্যপাল। চরণ সিংয়ের হাত ধরে লোকদলে যোগ দিয়ে ১৯৮০ সালে রাজ্যসভার সাংসদ হন তিনি। ১৯৮৪ সালে কংগ্রেসে যোগ দেন সত্যপাল। ১৯৮৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন। বোফোর্স দুর্নীতির প্রতিবাদে ১৯৮৭ সালে কংগ্রেস ছাড়েন তিনি। ভিপি সিংহের হাত ধরে যোগ দেন জনতা দলে। ১৯৮৯ সালে আলিগড় থেকে জনতা দলের টিকিটে লোকসভার সাংসদ হন। ভোটে জিতে সংসদ বিষয়ক এবং পর্যটন দফতরের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন সত্যপাল। ২০০৪ সালে তিনি অটলবিহারী বাজপেয়ীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। তবে সেই বছর লোকসভা নির্বাচনে তিনি বাগপত আসনে পরাজিত হন।
সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। পুলওয়ামা কাণ্ড, দিল্লিতে কৃষক সংগঠনগুলির আন্দোলন, মণিপুর নিয়ে প্রশ্ন তুলে বার বার বিব্রত করেছেন মোদি সরকারকে। এ সব ঘটনার জন্য তিনি মোদি সরকারকে দায়ী করেছিলেন। সত্যপালের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী এক্ম পোস্টে লিখেছেন, ভারতীয় রাজনীতিতে সত্য কথা বলতে পারেন খুবই সল্পসংখ্যক মানুষ। তাদের মধ্যে সত্যপাল ছিলেন একজন।
এদিন বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের তরফে সত্যপালের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। সত্যপালের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় রাজনীতিতে আরও এক বর্ণময় চরিত্রের অবসান ঘটল।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
