এসআইআর নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না সংসদে। বিরোধীদের দাবি উড়িয়ে বুধবার লোকসভায় ফের এই কথা জানালেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু।
এদিন তিনি সরকার পক্ষের যুক্তি হিসেবে আবারও বলেন, বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে আলোচনা সংসদে সম্ভব নয়, কারণ বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। সংসদের নিয়ম অনুযায়ী আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে আলোচনা অনুমোদিত নয়।
এসআইআর নিয়ে আলোচনার দাবিতে বিরোধীদের হইচই তে এদিনও মুলতুবি করে দিতে হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জিরো আওয়ারের কাজ। দুপুর ২টোয় অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধীরা ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুতে আলোচনা দাবি করতে থাকেন। তখন রিজিজু বলেন, লোকসভার নিয়ম অনুযায়ী এমন বিষয়ে আলোচনা সম্ভব নয়।
লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার বলরাম জাখরের একটি রায় উদ্ধৃত করে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মতো স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কাজকর্ম নিয়ে সংসদে আলোচনা করা যায় না।
‘আমি বিরোধী সদস্যদের জিজ্ঞাসা করতে চাই, আপনারা কি সংসদের নিয়ম ভাঙতে চান এবং সংবিধানের বিধানকে অগ্রাহ্য করতে চান?’ বলেন রিজিজু।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই, লোকসভায় ‘মার্চেন্ট শিপিং বিল, ২০২৪’ পাস হয় বিরোধীদের হইচই এর মধ্যেই। বিলটি পাস হওয়ার পর এইদিনের জন্য অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে.সি. বেণুগোপাল বলেন, ‘এসআইআর একটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিরোধী ভোটার বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশন এই ব্যবস্থা চালু করেছে, আর সরকার সেটিকে সমর্থন করছে। তাহলে তারা কেন সংসদে এই নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে চলছে ? তারা কী লুকোতে চাইছে। ? ভারতবাসী জানতে চায়, কেন এই এসআইআর হচ্ছে।’
এর আগে অধিবেশন শুরুর আগে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা সংসদ ভবন চত্বরে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
পাশাপাশি তৃণমূল সাংসদরা বাংলা ভাষার অপমান এবং বাংলাদেশী তকমা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের বিভিন্ন রাজ্যে হেনস্থার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তৃণমূলের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেস, আরজেডি, ঝাড়খন্ড মুক্তিমোর্চা, আম আদমি পার্টির কয়েকজন সাংসদও।
এদিকে ২১শে জুলাই থেকে শুরু হওয়া বাদল অধিবেশনের আগেই স্পিকারের ডাকা সর্বদল বৈঠকে বিরোধীরা জানিয়েছিল কোন কোন বিষয় নিয়ে তার আলোচনা চায়। তার মধ্যে প্রথম তিনটি বিষয় ছিল অপারেশন সিঁদুর, মনিপুর এবং এসআইআর নিয়ে আলোচনা।
প্রথম দুটি বিষয়ে যখন আলোচনায় সম্মত হয় সরকার, তখন সংসদের অধিবেশন সুষ্ঠুভাবেই চলেছিল। লোকসভাতে অপারেশন সিঁদুরের আলোচনায় জবাবী ভাষণ দিয়েছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী।
কিন্তু এসআইআর এর বিরোধিতা নিয়ে গোটা বিরোধী শিবির যেভাবে একজোট, তাতে বুধবার কিরণ রিজিজুর আলোচনার দাবি ফের নাকচ করার পর, আগামী দিনগুলোতে সংসদের অধিবেশন আদৌ সুষ্ঠুভাবে চলবে কিনা তাই নিয়ে ফের সংশয় দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ২১শে অগস্ট বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার কথা

