১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী এবং ১৯৬০ সালের রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেক্টরস বিধি মোতাবেক প্রতিটি সংসদীয় বা বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন বা রিভিশন করা হয়। বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ রিভিশন নিয়ে রাজনীতির প্লাটফর্মে বেশ শোরগোল উঠেছে। যদিও খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের এক সপ্তাহ পরেও বিহারের কোনও স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের খাতায় এখনও পর্যন্ত একটিও অভিযোগ জমা পড়েনি। ইতিমধ্যেই সংসদের ভিতরে ও বাইরে একাধিক রাজ্যে এমনকী সুপ্রিম কোর্টেও বিহারের ভোটার তালিকার বিশেষ রিভিশন নিয়ে অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। কিন্তু প্রায় সপ্তাহ গড়ালেও এখনো পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কাছে বিহারের খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে বিহারের স্বীকৃত বারোটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে একটিও অভিযোগ জমা পড়েনি। আর এই ঘটনাকে সামনে রেখেই বিহারের স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশনের প্রক্রিয়ার সাফল্যকে তুলে ধরতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। মূলত মৃত ভোটার, স্থায়ীভাবে ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া ভোটার, অস্থায়ীভাবে রাজ্যের বাইরে থাকা ভোটার, যাঁদের কোনও যোগাযোগ মেলেনি– এধরনের ভোটার এবং নথিভুক্ত ঠিকানা অনুযায়ী অস্তিত্বহীন ভোটার সবমিলিয়ে বিহারে এই স্পেশাল রিভিশনে প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে খসড়া ভোটার তালিকায়। সুপ্রিম কোর্টের মামলায় অভিযোগ জানানো হয়েছে যে এই ৬৫ লক্ষ ভোটারের নির্দিষ্ট তালিকা দেয়নি নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ কারা কী কারণে এই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লেন, তা নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য থেকে স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ। সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে ইতিমধ্যেই বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে। তবে রাজনৈতিক মঞ্চে অথবা আদালতে বিহারের স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন নিয়ে হাজারো অভিযোগ থাকলেও কার্যক্ষেত্রে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সপ্তাহ গড়ালেও কোনও রাজনৈতিক দল সরকারিভাবে কমিশনের কাছে ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে অভিযোগ জমা না দেওয়ার বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। অবশ্য আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিহারের ১২টি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৮১৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁদের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করার সুযোগ পাবেন। কোনও অভিযোগ পেলেই সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্টেশন অফিসারের নির্দেশ ছাড়া নির্দিষ্ট কারণ না দেখিয়ে এবং উপযুক্ত শুনানি ছাড়া ভোটার তালিকা থেকে কোনও ভোটারের নাম বিয়োজন এবং সংযোজনের কাজ করা যাবে না বলেও ইতিমধ্যেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, গত ১ আগস্ট প্রকাশিত বিহারের খসড়া ভোটার তালিকা কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টালে তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দৈনিক বুলেটিন প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন ক্লেমস অ্যান্ড অবজেকশনের নির্দিষ্ট তালিকা তুলে ধরছে। সরকারি তথ্য প্রমাণ জোগাড়ের সুবিধার জন্য চার লক্ষ স্বেচ্ছাসেবক বিহারে নিযুক্ত করেছে কমিশন। পাশাপাশি ৯০ হাজার ৭১২ জন বি এল ও বিহারের এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। উল্লেখযোগ্য, দেশের প্রথম অঙ্গরাজ্য হিসেবে বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রতি বুথে সর্বাধিক ১২০০ ভোটার থাকার নয়া নিয়মে বিধানসভার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। যে কারণে বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট বুথের সংখ্যা ৭৭ হাজার ৮৯৫ থেকে বেড়ে ৯০ হাজার ৭১২ হয়েছে। সব মিলিয়ে বিহারে এসআইআর নিয়ে দেশজুড়ে যতই রাজনৈতিক ডামাডোল তৈরি হোক না কেন এই স্পেশাল রিভিশন প্রক্রিয়া সামগ্রিকভাবে সাফল্যের সঙ্গেই সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি কমিশনের পদস্থ আধিকারিকদের।
