জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় বিজেপি ভোটার তালিকায় কারচুপি করছে এমন প্রমাণের ‘অ্যাটম’ বোমা তাঁর হাতে আছে বলে আগেই জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের জালিয়াতির অভিযোগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিক সম্মেলন করে তুলে ধরলেন তিনি।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে ভোটার তালিকায় ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমরা গত ছয় মাস ধরে এই নিয়ে কাজ করেছি এবং ভোটার তালিকায় ভোট চুরির স্পষ্ট, নির্দিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করেছি।’
তিনি বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল লোকসভা কেন্দ্র এবং মহাদেবপুরা বিধানসভা কেন্দ্রের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘কংগ্রেস ৬,২৬,২০৮ ভোট পেলেও বিজেপি পেয়েছে ৬,৫৮,৯১৫ ভোট — ব্যবধান ৩২,৭০৭। কিন্তু শুধু মহাদেবপুরা কেন্দ্রেই কংগ্রেস ১,১৪,০০০ ভোটে পরাজিত হয়েছে।’
তাঁর অভিযোগ, ওই আসনে :
১১,৯৬৫ টি ডুপ্লিকেট ভোটার
৪০,০০৯ টি ভুয়ো ঠিকানা
১০,৪৫২ টি এক ঠিকানার বহু ভোটার
৩৩,৬৯২ টি ক্ষেত্রে ফর্ম-৬-এর অপব্যবহার ছিল।
রাহুল বলেন, ‘এটা শুধু একটি কেন্দ্রের কথা নয়, গোটা দেশেই এই ধরনের অপরাধ ঘটছে। এটি ভারতীয় সংবিধান ও জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে অপরাধ।’
রাহুল গান্ধী বলেন, আজকের দিনে নির্বাচন একটি সাজানো নাটকে পরিণত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনকে দীর্ঘায়িত করে পরিচালনা করছে যাতে সুবিধাজনক সময়ে প্রভাব খাটানো যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ দেশে প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র নেই। এক্সিট পোল ও অভ্যন্তরীণ সমীক্ষাগুলো সবই ভুল প্রমাণিত হয়। বিজেপি একমাত্র দল যারা কোনওদিন সরকারবিরোধী হাওয়ার মুখে পড়ে না — সেটা সম্ভব নয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়।
তিনি অভিযোগ করেন, ইসিআই বিজেপির সঙ্গে মিলে ‘ভোট চুরি’ করেছে এবং এখন সেই প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ‘ইসিআই এখনও পর্যন্ত বলেনি, ‘রাহুল গান্ধী যা বলছেন তা মিথ্যা।’’
রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ২০২৩ সালের ছত্তিশগড় নির্বাচন থেকেই কংগ্রেসের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়, যা ২০২৪ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে গিয়ে দৃঢ় হয়। দুই নির্বাচনেই বিজেপি জয়ী হয়েছে।
