একদিকে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের ৩৩৪ টি রেজিস্টার্ড অথচ অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করল নির্বাচন কমিশন। দেশের মোট ৩৪৫টি এ ধরনের রাজনৈতিক দলকে শোকজ করা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মাধ্যমে। সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে নির্দিষ্ট হিয়ারিংয়ের পর ৩৩৪ টি এ ধরনের রাজনৈতিক দল যারা নির্বাচন কমিশনের রেজিস্টার্ড অথচ অস্বীকৃত হিসেবে পরিগণিত তাদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হল। কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে দেশ জুড়ে এই ধরনের পদক্ষেপ ধারাবাহিকভাবে করার কাজ চলবে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী যদি কোনও রাজনৈতিক দল লাগাতার ছয় বছর কোনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তাহলে তাদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যায় অথবা নির্বাচন কমিশনের খাতায় তাদের নাম কাটা যায়। একই সঙ্গে 1951 সালে ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২৯ এ ধারা অনুযায়ী কোনও রাজনৈতিক দলের রেজিস্ট্রেশনের জন্য দলের নাম ঠিকানা এবং পরিচালকদের বিশদ বিবরণ নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাতে হয় এবং যদি কোনও ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হয় তা তৎক্ষণাৎ কমিশনকে জানাতে হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ভারতে ৬টি জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক দল, ৬৭ টি রাজ্যস্তরের রাজনৈতিক দল এবং ২৮৫৪ টি রেজিস্টার্ড অথচ অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল রয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক দলকে কমিশনের এই বিধি মেনে চলতে হয়। চলতি বছরের জুন মাসের আগে নির্বাচন কমিশন সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যে রাজনৈতিক দলগুলির রেজিস্ট্রেশনের যে তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আছে সেগুলোকে খতিয়ে দেখতে হবে। তদনুযায়ী সমস্ত সিইও দপ্তর রাজনৈতিক দলগুলির তথ্য খতিয়ে দেখে সেক্ষেত্রে জাতীয় বা রাজ্যভিত্তিক দলগুলির ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা না থাকলেও দেশের ৩৪৫টি রেজিস্টার্ড অথচ অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষেত্রে তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের যথেষ্ট গরমিল ধরা পড়ে। এ ধরনের রাজনৈতিক দলগুলিকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়। যে সমস্ত দল হিয়ারিং-এ গরহাজির থাকে তাদের সকলেরই রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। হিয়ারিং-এ এসেও যারা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি তাদের ক্ষেত্রেও কড়া পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ৩৪৫টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩৩৪টি রাজনৈতিক দলের রেজিস্ট্রেশন ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে এবং বাকি ১১ টি রাজনৈতিক দলের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ বর্তমানে দেশে রেজিস্টার্ড অথচ অস্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ২,৫২০টি। এই ২৫২০ টি রাজনৈতিক দল এখন থেকে তাদের রাজনৈতিক সত্তা যেমন হারালো তেমনি ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী কোনও সুযোগ-সুবিধা তারা আর পাবে না। ভারতীয় নির্বাচনী প্রতীক আইন অনুযায়ী তাদের জন্য ভোটের যে প্রতীক চিহ্ন বরাদ্দ ছিল সেটাও ফিরিয়ে নিল নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে ১৯৬১ সালের আয়কর আইন অনুযায়ী এই রাজনৈতিক দলগুলো যে কর ছাড়ে সুবিধা পেত তাও খারিজ করে দেওয়া হল। সবমিলিয়ে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের পাশাপাশি সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড়সড় সংস্কারমুখী পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন।
