ডুরান্ড কাপের ইস্টবেঙ্গল-নামধারী ম্যাচে যুবভারতীর গ্যালারি প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল বাংলা ভাষা ঘিরে বিতর্কে। ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের দেখানো পথেই এবার বাংলা ভাষার ‘অবমাননা’ নিয়ে গ্যালারি জুড়ে সোচ্চার হল মোহনবাগান সমর্থকের দল। ডায়মন্ড হারবারের বিরুদ্ধে ম্যাচে মশাল বাহিনীর মতোই টিফো আর ব্যানারে দিয়ে গ্যালারি ঢাকল মেরিনার্সরা।
প্রতিবাদের মঞ্চ হয়ে মাঝেমধ্যেই খবরের শিরোনামে চলে আসে আস্ত একটা ফুটবল মাঠ। সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন রয়েছে সেই তালিকায়। এক বছর আগের নির্ভয়া কাণ্ড ঘিরে অপরাধীর কড়া শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছিল ময়দানের ৩ প্রধান। এবার বাংলা ভাষা ঘিরে বিতর্কেও একসুরে প্রতিবাদ জানাল ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের গ্যালারি ভরানো সদস্য-সমর্থকরা।
দেশের নানান প্রান্তে বাংলাভাষীদের আক্রান্ত হওয়া কিংবা বাংলা ভাষাকে অসম্মানিত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠছে। আর সেকারণেই বাংলা ভাষা ও বাঙালিদের সমর্থনে ব্যানার আর টিফোয় লেখা ছিল এক একটি বার্তা কিংবা স্লোগান। ছন্দ মিলিয়ে কোথাও লেখা হয়েছে, ‘দেশটা কারও বাপের নয়, নয়কো জাতের খেলা। এই বাঙালিই ঘুচিয়েছিল, পরাধীনতার জ্বালা।’ কোথায় আবার লেখা ছিল ‘বাঙালির পণ, বাঙালির আশা, বাঙালির কাজ, বাঙালির ভাষা, সত্য হউক, সত্য হউক, সত্য হউক হে ভগবান।’
শনিবার যুবভারতীর ম্যাচ শুরু আগে নজর কেড়েছে আরও কিছু টিফো। যেখানে স্লোগানের ছন্দে লেখা হয়েছে, ‘শহিদের রক্ত, কবির নোবেল। ভারতের মুকুটে বাংলা জুয়েল।’ শুধুমাত্র গ্যালারিতে টিফো কিংবা ব্যানার প্রদর্শনই নয়, র্ফ্যান ক্লাবের তরফে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়েও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বাংলা ভাষা বিতর্কে। লেখা হয়েছে, ”আমরা গর্বিত বাঙালি ভাষাভাষী ভারতীয়। আমাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস কেউ করবেন না। কে আগে ভারতীয়, তা আমাদের শেখানোর প্রয়োজন নেই। দেশপ্রেম কী, তা আমাদের কেউ শেখাতে আসবেন না। আমরা কারা, তা আমরা ভালো করেই জানি — আমাদের সংস্কৃতিতে আমাদের শিকড়, আর আমাদের দেশপ্রেম নিঃস্বার্থ ও অটল।”
