আরজিকর কাণ্ডে নিহত তরুণী চিকিৎসকের মায়ের বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা রিপোর্ট নিয়ে ক্ষুব্ধ নিহতের বাবা। পুলিশের কাছে মেল করে অভিযোগ দায়ের করতে চলেছেন তিনি। বেসরকারি হাসপাতালের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। সোমবার হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত মামলায় বিষয়টি উত্থাপন করবেন তাঁদের আইনজীবীরা। জানিয়েছেন নিহত চিকিৎসকের বাবা ।
বেসরকারি হাসপাতালের দেওয়া শনিবারের রিপোর্ট ও রবিবারের রিপোর্টের মধ্যে যথেষ্ট ফারাক রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে একটা র্যালি থেকেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ যে মেরে এই ঘটনা ঘটিয়েছে সেটার কোনও উল্লেখ নেই ওই রিপোর্টে। তাঁর দাবি, শনিবার প্রাথমিকভাবে যে রিপোর্ট তাঁদের দেখানো হয়েছিল রবিবার সেই রিপোর্ট বদলে দেওয়া হয়েছে। আর সেকারণেই বেসরকারি হাসপাতালের দেওয়া রিপোর্ট ফিরিয়েও দিয়েছেন সন্তানহারা বাবা।
পুলিশের লাঠিচার্জ সহ শনিবারের মিছিলে ঘটে যাওয়া সমস্ত কিছু উল্লেখ করে পুলিশের ভূমিকার বিরুদ্ধে পুলিশকেই মেল করে অভিযোগ জানাচ্ছেন নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা। রবিবার তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রাজ্য সরকারের চাপেই বেসরকারি হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা করা হয়নি তাঁর স্ত্রীর। শনিবার থেকে পর্যবেক্ষণে রেখে স্ত্রীর চিকিৎসা চলেছে। কিন্তু তাঁকে ভর্তি করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তিনি জানান, চিকিৎসকরা তাঁকে বলেছেন যে, তাঁর স্ত্রী এখন বিপদমুক্ত। তাই স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে রাখতে চান তিনি।
বেসরকারি ওই হাসপাতালের অনেক চিকিৎসক আরজিকর কাণ্ডে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। নিহত তরুণী চিকিৎসকের বারা তাঁদের মাধ্যমেই খবর পেয়েছেন। তাঁর দাবি রাজ্য সরকারের চাপেই তাঁর স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হয়নি। শনিবার হাসপাতালে ঢোকার পর থেকেই পুলিশ তাঁদের উপর নজরদারি চালাচ্ছি বলেও অভিযোগ তাঁর। সব মিলিয়ে পুলিশের ভূমিকায় সন্দেহ প্রকাশ করে এবং হাসপাতালের রিপোর্ট অসম্পূর্ণ বলে উল্লেখ করে পুলিশের কাছেই অভিযোগ দায়ের করতে চলেছেন আরজিকর কাণ্ডে নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা।
