ব্রিটিশ আমলের রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের খোল নলচে বদলে ফের চালু করতে চলেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এই অভিযোগ তুলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫২ ধারার সংবিধানিক বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে দেশের শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫২ ধারার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ মামলা শুনতে রাজি হয়েছে। শুক্রবারই এই চ্যালেঞ্জ মামলার শুনানি সংক্রান্ত নোটিশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
উল্লেখযোগ্য, ব্রিটিশ আমলের এই রাষ্ট্রদ্রোহ আইন স্থগিত রাখার নির্দেশ আগেই দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট লোকসভায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ বিল সংসদে পেশ করে জানিয়েছিলেন নয়া আইনে ব্রিটিশ আমলের চিরাচরিত রাষ্ট্রদ্রোহ আইনটি আর থাকছে না। পূর্বতন ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪ এ ধারা বা ওই রাষ্ট্রদ্রোহ আইন বাতিল করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যদিও সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে অভিযোগ করা হয়েছে বিএনএসের ১৫২ ধারা বিতর্কিত রাষ্ট্রদ্রোহ আইন আইপিসির ১২৪এ ধারাকে প্রতিস্থাপন করেছে। যা ভিন্নমত দমন করার জন্য ব্যবহৃত হওয়ার জন্য সমালোচিত হয়েছে এবং
কার্যকলাপকে অপরাধী বলে গণ্য করা হয়েছে।
এটি ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য এবং অখণ্ডতাকে বিপন্ন করে এমন কার্যকলাপকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে, যার মধ্যে রয়েছে বক্তৃতা, লেখা, চিহ্ন, দৃশ্যমান উপস্থাপনা, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ, অথবা আর্থিক উপায় যা বিচ্ছিন্নতা, বিদ্রোহ বা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপকে উস্কে দেয়। ১৫২ ধারা লঙ্ঘনের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, সেই সাথে জরিমানাও হতে পারে। ১৫২ ধারার এই সংস্থান যা বাকস্বাধীনতা দমনের হাতিয়ার হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আদালত এই বিষয়ে কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়াও চেয়েছে। নয়া বিল বা আইন ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের থেকেও আরো বেশি ” আগ্রাসী ” বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আপাতত সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার শুনানিতে সম্মতি দেওয়ায় ভারতীয় ন্যায় সঙ্গীতার ১৫২ ধারার সাংবিধানিক বৈধতা সম্পর্কে আদালতের কি পর্যবেক্ষণ সেদিকেই তাকিয়ে কেন্দ্র বিরোধী রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংগঠন থেকে সংশ্লিষ্ট মহল।
