ব্যবসা, ব্যবসা আর ব্যবসা। এছাড়া এই মুহূর্তে আর কিছুই বুঝছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই চিনের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে ফাইনাল ফাইটের আগে কায়দা করে সয়াবিনের টোপ ঝুলিয়ে দিলেন তিনি। সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিনের অর্ডার চার গুণ করে নিক। আর এটা যে চিনের সঙ্গে হতে চলা শুল্ক চুক্তিতে প্রভাব ফেলবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
কিন্তু কেন এমনটা বললেন ট্রাম্প? আসলে সয়াবিনের বিপুল বাজার রয়েছে চিনে। গোটা পৃথিবীর রফতানি হওয়া সয়াবিনের ৬০ শতাংশের বেশি কিনে নেয় চিন। আবার চিন যে সয়াবিন আমদানি করে তার প্রধান উৎস হল ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র। সম্পর্কের নানা জটিলতার কারণে চিন ইতিমধ্যে আমেরিকা থেকে সয়াবিন কেনা কমিয়ে দিয়েছে।
একটা হিসেব বলছে, গত বছর চিন প্রায় ১০৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন সয়াবিন আমদানি করেছে, যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং বাকি অংশ মূলত ব্রাজিল থেকে। আসলে চিন ধীরে ধীরে মার্কিন সয়াবিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ফেলছে। এমন অবস্থায় বিশাল বাজার হারানোর শংকায় নড়েচড়ে বসেছে ট্রাম্পের দেশ। তাই খেলা নিজেদের দিকে ঘোরাতে বাণিজ্য চুক্তির আগেই অর্ডার চার গুণ বাড়ানোর চাপ দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, “চিন সয়াবিনের ঘাটতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। পাশাপাশি আমাদের কৃষকরা সবচেয়ে শক্তিশালী সয়াবিন উৎপাদন করেন। আমি আশা করি চিন দ্রুত তার সয়াবিনের অর্ডার চার গুণ করবে। এটা আমেরিকার সঙ্গে চিনের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর একটি উপায়। দ্রুত পরিষেবা দেওয়া হবে। ধন্যবাদ প্রেসিডেন্ট শি।”
তবে ইতিমধ্যেই চিনের সঙ্গে ট্রাম্পের শুল্ক-যুদ্ধ দেখে নিয়েছে বিশ্ব। দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে ট্রাম্পকে খুব একটা খোলা ময়দানে ব্যাট করতে দিতে চায় না ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত চিন। জানা যাচ্ছে, এ বছর ওয়াশিংটন–বেজিং বাণিজ্য উত্তেজনার জন্য চিন এখনও ফোর্থ কোয়ার্টারের জন্য কোনও মার্কিন সয়াবিন কেনেনি। এটা বড়সড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। অর্থাৎ ট্রাম্পের টোপ আদৌ কোনও কাজে আসবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
Leave a comment
Leave a comment
