বিধানসভায় পাস হওয়া বিলের ছাড়পত্র দিতে রাজ্যপাল ও রাষ্ট্রপতিকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে। রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের বিলে ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার মামলায় সুপ্রিম কোর্টে এমনটাই জানাল কেন্দ্রীয় সরকার।
সম্প্রতি একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের
বেঞ্চ আইন সভায় পাস হওয়া বিলের ক্ষেত্রে রাজ্যপালকে এক মাস এবং রাষ্ট্রপতিকে তিন মাস সময়সীমা বেঁধে দেয়। যদিও শীর্ষ আদালতে হিন্দু সরকারের পক্ষে জানানো হয় সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের ক্ষমতার বলেও শীর্ষ আদালত কখনই সংবিধান সংশোধন করতে পারে না। সেক্ষেত্রে আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব পাস করাতে হবে। দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের সম্মতি প্রদানের প্রক্রিয়ার প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হতে পারে তা বলে এ ধরনের উচ্চপদকে অধস্থন পদে পরিণত করা যায় না।
উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল তামিলনাড়ু সরকার। মামলার পিটিশন অনুযায়ী রাজ্যপাল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দশটি বিল আটকে রেখেছেন যা তামিলনাড়ু বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছিল। রাজ্য সরকারের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করে প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন রাজ্যপাল বলে সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ জানায় তামিলনাড়ু সরকার। অভিযোগ খতিয়ে দেখে এবং দুপক্ষের সওয়াল জবাব শেষে গত ৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ আটকে থাকা ওই ১০ টি বিলকে আইনে পরিণত করার নির্দেশ দেন। বিলের অনুমোদনে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যপাল তো বটেই এমনকী রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেও বিল পাশের সময় মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যগুলির স্বাধীনতা রক্ষায় এবং রাজ্য প্রশাসনের সুষ্ঠু পরিচালনার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে মনে করা হচ্ছে। এরপর রাষ্ট্রপতি রাজ্যপালদের ক্ষেত্রে এভাবে সময় মেয়াদ নির্দিষ্ট করা যায় কিনা তার আইনি ব্যাখ্যা সুপ্রিম কোর্টের কাছে জানতে চেয়েছিলেন।
