রাজনীতি থেকে দুর্নীতি দূর করার লক্ষ্যে বুধবার লোকসভায় ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কেন্দ্রের এই বিলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ১৩০ তম সংশোধনী বিল এনে গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘণ্টা বাজাচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তাই গণতন্ত্রের জন্য আজকের দিনটি কালো দিন।
বুধবার লোকসভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যার মধ্যে অন্যতম ছিল ১৩০ তম সংবিধান সংশোধনী বিল। ওই বিলে বলা হয়েছে, কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী যদি গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডযোগ্য কোন অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে ৩০ দিনের বেশি জেলে থাকেন তাহলে ৩১ তম দিনে তাঁকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করা যাবে।
বিলটি পেশ হতেই এদিন সংসদের ভিতরে ও বাইরে প্রবল বাধা দেন বিরোধীরা।
মুখ্যমন্ত্রী এক্স পোষ্টে এই বিলের প্রবল সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার এই বিলের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শেষ করে দিতে চাইছে। এই বিল অতিজরুরি অবস্থার থেকেও ভয়াবহ। তাই তিনি এই বিলের তীব্র নিন্দা করছেন। এই বিল দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন আঘাত। দেশের গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করতেই এই বিল আনা হয়েছে। এই বিল অতি জরুরী অবস্থার চেয়েও ভয়ঙ্কর। এই বিল আইনে পরিণত হলে দেশের গণতান্ত্রিক যুগের অবসান ঘটবে। আজকের দিনটি গণতন্ত্রের পক্ষে কালো দিন ছাড়া আর কিছুই নয়।
প্রস্তাবিত এই বিলকে হিটলারি বিল বলে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেছেন,
এই বিল বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতাকেও শেষ করতে চাইছে। আদালতের সাংবিধানিক ভূমিকা কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রকে পঙ্গু করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের ভরসাস্থল যে আদালত তার ক্ষমতাও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এই বিল কোনও সংস্কার নয় বরং পিছনের দিকে ফিরে যাওয়ার এক বিপজ্জনক চেষ্টা। এই বিল আইনে পরিণত হলে আদালতের বদলে আইন থাকবে পক্ষপাতদুষ্ট কিছু মানুষের হাতে। বিচার ব্যবস্থার মুখ বন্ধ করে দিয়ে সাংবিধানিক সুরক্ষাকে ভেঙে ফেলতে চাইছে মোদি সরকার। এই সরকারের লক্ষ্য হল জনগণের সমস্ত অধিকার কেড়ে নেওয়া।
মমতা আরও বলেন, এই বিলকে তিনি বিংশ শতকের সেই অন্ধকার অধ্যায়গুলির সঙ্গে তুলনা করছেন, যা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার জন্ম দিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, এই বিল দেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোয় আঘাত করবে। এই বিল দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য মৃত্যু পরোয়ানা। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মোদি সরকার আসলে এককেন্দ্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এই বিল এনে মোদি সরকার একদল, এক ব্যক্তি ও এক সরকার ব্যবস্থা কায়েম করার চক্রান্ত করছে। সিবিআই, ইডির মত সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচিত রাজ্য সরকারগুলির কাজে হস্তক্ষেপ করে সেই রাস্তা খুলে দিতে চাইছে কেন্দ্র। সুপ্রিম কোর্ট যাদের খাঁচার তোতা বলে কটাক্ষ করেছিল সেই সব সংস্থাকেই মানুষের রায়ের উপর ঠাঁই দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট কথা, যে কোন মূল্যে এই বিলকে ঠেকাতে হবে। মনে রাখতে হবে দেশের সংবিধান হল সাধারণ মানুষের জন্য। সংবিধান কখনওই ক্ষমতাসীনদের ব্যক্তিগত বিষয় নয়। মোদি সরকার গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই বিল রুখতে সকলকে পথে নামতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, আগেই এসআইআরের নামে দেশের নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল মোদি সরকার। এবার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির কাছ থেকেও ক্ষমতা কেড়ে নিতে চাইছে তারা। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়, এটা মেনে নেওয়া যায় না।
Leave a comment
Leave a comment
