ব্যক্তিগত জীবন ও স্বাস্থ্য বিমা নীতিতে জিএসটি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে কেন্দ্র। বুধবার এই তথ্য জানান বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও বিমা বিষয়ক গ্রুপ অব মিনিস্টার্স (GoM)-এর আহ্বায়ক সম্রাট চৌধুরী।
১৩ সদস্যের রাজ্যভিত্তিক বিমা বিষয়ক মন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বুধবার। বৈঠকে প্রায় সব রাজ্যই প্রস্তাবটির পক্ষে মত দেয়। তবে রাজ্যগুলোর দাবি ছিল, জিএসটি হ্রাসের সুফল সরাসরি গ্রাহকের কাছে পৌঁছতে হবে। বর্তমানে স্বাস্থ্য ও জীবন বিমার প্রিমিয়ামের ওপর ১৮ শতাংশ জিএসটি ধার্য রয়েছে।
তেলাঙ্গানার উপমুখ্যমন্ত্রী ও গোষ্ঠীর সদস্য মল্লু ভাট্টি বিক্রমার্কা বলেন, “সব রাজ্যই স্পষ্ট জানিয়েছে যে, জিএসটি কমানোর সুবিধা যেন বিমা কোম্পানিগুলো না পেয়ে সরাসরি গ্রাহকরা পান। এজন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক রাজ্য বৈঠকে জানিয়েছে—কোনও একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যাতে হার কমানোর সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জিএসটি কাউন্সিল।”
সম্রাট চৌধুরী জানান, গোষ্ঠীর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জিএসটি কাউন্সিলের কাছে জমা দেওয়া হবে। এতে বিভিন্ন রাজ্যের অর্থমন্ত্রীরা যে মতামত ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি আরও বলেন, সব রাজ্যই হারের বিষয়ে নিজস্ব মত দিয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কাউন্সিল।
কেন্দ্রের এই প্রস্তাবকে “নেক্সট-জেন জিএসটি সংস্কার পরিকল্পনার” অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সংস্কারে পণ্য ও পরিষেবার উপর দুই ধরনের হারে জিএসটি ধার্য করা হবে – ৫ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ, যেখানে পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী ‘মেরিট’ ও ‘স্ট্যান্ডার্ড’ বিভাগে ভাগ করা হবে।
অক্টোবরের শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে গোষ্ঠীর। এতে উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ, গোয়া, গুজরাট, মেঘালয়, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু ও তেলেঙ্গানার মন্ত্রীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
বৈঠকের আগে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এক বক্তব্যে বলেন, জিএসটি সংস্কার “আত্মনির্ভর ভারত”-এর দিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়াম থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিয়ে জিএসটি আদায় হয়েছে ৮,২৬২.৯৪ কোটি টাকা। আর স্বাস্থ্য পুনর্বিমা প্রিমিয়াম থেকে আদায় হয়েছে ১,৪৮৪.৩৬ কোটি টাকা।
