৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবি। মাসখানেক আগে বাংলাদেশি সন্দেহে সোনালি-সহ আরও ৬ জনকে ধরেছিল দিল্লি পুলিশ। তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশে। কিন্তু সেখানে বুধবার চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ সোনালি, তার স্বামী দানিশ এবং তাদের বছর সাতেকের ছেলেকে আটক করেছে। আটক করেছে সুইটি বিবি ও তার দুই নাবালক সন্তানকেও।
বাংলাদেশ পুলিশের দাবি এরা অবৈধভাবে সে দেশে ঢুকেছে। মাসখানেক আগে অসমের কুড়িগ্রাম থেকে ওরা বাংলাদেশের ঢুকেছিল। থাকছিল চাঁপাই নবাবগঞ্জে। ওই ৬ জনের শেষ পরিণতি কী হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার এখন বাংলাদেশের আদালতের উপর।
শুক্রবার ধৃতদের আদালতে তোলা হলে তাদের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। তবে গতকাল সোনালি ও সুইটির হয়ে কোনও আইনজীবী সওয়াল করেননি।
সুইটি এবং সোনালি আদালতে জানান, তারা ভারতীয় নাগরিক। তাদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। আগামী মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
এই বিষয়ে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাংসদ সামিরুল ইসলাম বলেছেন, তিনি এই গ্রেফতারের বিষয়টি শুনেছেন। ওই ৬ জনকে ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু আইনি সমস্যা রয়েছে। তবে তাদের দেশে ফেরানোর জন্য তিনি সব ধরনের চেষ্টা চালাবেন।
সোনালি ও সুইটির পরিবারের দাবি, তাঁরা আদতে বীরভূমের পাইকরের বাসিন্দা। তবে দীর্ঘদিন ধরেই সেনালি ও সুইটি দিল্লিতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে বাস করছিলেন। সেখানেই কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু হঠাৎই মাসখানেক আগে তাদের গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। পরিবারের আরও দাবি, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সবই ছিল সোনালি ও সুইটির কাছে। এমনকি, তাঁদের পূর্বপুরুষরা যে ১৯৫৬ সালে থেকে বীরভূমে বসবাস করতেন তার নথিও ছিল। কিন্তু কিছুই মানেনি দিল্লি পুলিস। কার্যত জোর করে তাদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়। প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের কেন এভাবে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে সে দেশে পাঠানো হবে এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাইকরের মানুষ।
অন্তঃসত্ত্বা সোনালীকে নিয়ে গভীর উদ্বেগে পড়েছেন তার বাবা ভাদু শেখ। ভাদু বলেছেন, যে কোন মুহূর্তে মেয়ে, সন্তানের জন্ম দেবে। সেক্ষেত্রে ওই সন্তান কোন দেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে তা নিয়ে নতুন এক জটিলতা তৈরি হবে।
কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ থেকে মালদহের কালিয়াচকের জালালপুরে ফিরেছেন আমির শেখ। তাঁর অভিযোগ, বৈধ পরিচয়পত্র দেখালেও ছাড় মেলেনি। বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি তকমা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। শুধু গ্রেফতার নয়, বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠিয়ে সাধারণ গরিব মানুষকে অকারণ অপদস্থ, অসম্মান করা হচ্ছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেককেই হয়তো বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে।
এদিকে পরিবারের সদস্যদের ফিরে পেতে সোনালির বাবা ভাদু শেখ এবং সুইটির এক ভাই আমির খান হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। ১০ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টে ওই মামলার শুনানি হবে। এখন আদালতের নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে দুই পরিবার।
