ভুল স্বীকার করে ৩ দিনের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে মামলা। ডিজিটাল মিডিয়া বাংলা হান্টকে আইনজীবীর নোটিস পাঠালেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। কুণালের বক্তব্য, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের একটা অস্পষ্ট ছবি সেঁটে যে শিরোনামে খবরটি প্রকাশ হয়েছে তা সস্তা সাংবাদিকতার নিদর্শন।
আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুন হওয়া চিকিৎসকের মা-বাবার সাম্প্রতিক অভিযোগ ঘিরে খবর করেছিল ডিজিটাল মিডিয়া বাংলা হান্ট। তাদের খবরের শিরোনাম ছিল, ”প্রকাশ্যে কুণালের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ‘টাকা দিয়ে সেটেলমেন্ট’ করতে চাওয়ার প্রমাণ দিলেন তিলোত্তমার বাবা-মা।”
কুণালের দাবি, বাংলা হান্টে যে পোস্টটি ঝাপসা করে দেখিয়ে রহস্য তৈরির চেষ্টা হয়েছে, সেটি যেন স্পষ্ট করে পাঠক-দর্শকের দরবারে তুলে ধরা হয়। আর এগুলি না হলেই আদালতে এসে ব্যাখ্যা দেওয়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর আইনজীবী অয়ন চক্রবর্তীর নোটিসের মাধ্যমে।
আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুন হওয়া চিকিৎসকের মা-বাবা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ করেছেন। বাবার অভিযোগ, রাজ্য সরকারের হয়ে সিবিআইয়ের সঙ্গে বোঝাপড়া করেছিলেন কুণাল ঘোষ। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাবার কাছে মানহানির নোটিস পাঠান কুণাল।
মানহানির সেই নোটিস পেয়েও নতুন করে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন মৃত চিকিৎসকের মা ও বাবা। মায়ের অভিযোগ, কুণাল ঘোষ তাঁদের টাকা দিয়ে রফা করতে বলেছেন। সাংবাদিকদের বলেন, ”আমাদের সঙ্গে উনি টাকা দিয়ে ব্যাপারটা রফা করার চেষ্টা করেছিলেন। আমাদের বাড়িতে আসেননি, তবে বলেছিলেন আপনাদের টাকা দিচ্ছি, ব্যাপারটা মিটিয়ে নেবেন।”
ধর্ষিতা-খুন হওয়া চিকিৎসকের বাবা-মায়ের নতুন করে অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলাও দায়ের করেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা যেন বিচারককে উপযুক্ত প্রমাণ দেখান।
ডিজিটাল মিডিয়াকে যে ক্ষমা চাওয়ার নোটিস পাঠিয়েছেন কুণাল, তা তিনি তাঁর সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। তাঁর পোস্টের নীচেই উত্তর দিয়েছে ওই মিডিয়া। তারা কমেন্টে লিখেছে, বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যে তারা উত্তর দেবে। যা যা চ্যালেঞ্জ আছে সব গ্রহণ করছি। সব আইনের পথে আছে। উত্তরটাও আইনের পথে যাবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আর জি কর হাসপাতালে ডিউটিতে থাকাকালীনই ধর্ষিতা ও খুন হন ট্রেনি চিকিৎসক। সেই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছিল। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের ওপর। তবে সেই তদন্তের পরিণতিতে মোটেই খুশি নন মৃত চিকিৎসকের মা-বাবা।
