ভেবেছিলেন এশিয়া কাপের দলে তাঁর ঠাঁই নিশ্চিত। তাই ঘরোয়া দলীপ ট্রফি ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের প্রস্তাব সবিনয়ে ফিরিয়ে দেন। তবে পশ্চিমাঞ্চলের (ওয়েস্ট জোন) হয়ে খেলতে অস্বীকার করেননি শ্রেয়স আইয়ার। আইপিএল-এর কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের সফল অধিনায়ক প্রস্তাব ফেরানোয়, নির্বাচক মণ্ডলী শার্দুল ঠাকুরের কাঁধে সেই দায়িত্ব চাপিয়েছে।
সূত্রের খবর, আইয়ার ওয়েস্ট জোনের নির্বাচন কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া দলের অধিনায়কত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এরপর, কমিটির চেয়ারম্যান, সঞ্জয় পাতিল, যিনি মুম্বইয়ের প্রধান নির্বাচকও, শার্দুল ঠাকুরকে পশ্চিম জোনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। সুযোগটি ঠাকুর সানন্দে গ্রহণ করেছেন”।
শ্রেয়স টি-২০ এশিয়া কাপে ডাক পাওয়া নিয়ে একরকম নিশ্চিত ছিলেন। ফর্মে থাকা ব্যাটার তাই ব্যক্তিগত কোচ প্রবীণ আমরের কাছে সাদা বলের ক্রিকেটের জন্য নিবিড় প্রশিক্ষণ শুরু করতে চেয়েছিলেন। তখন দলীপের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সামলে এদিকে তেমন নজর দিতে পারতেন না।
প্রসঙ্গত, এশিয়া কাপ এবার শুরু হচ্ছে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে। অন্যদিকে দলীপ ট্রফির সেমিফাইনাল রয়েছে ৪ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত । যদি শ্রেয়সকে দলে রাখা হত, তাহলে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে তাঁকে পাওয়া যেত না। এসব কারণেই আগেভাগে তিনি অধিনায়কত্বের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। যদিও জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্যরা তাঁদের ১৫ সদস্যের এশিয়া কাপ দলে শ্রেয়সকে জায়গা দেননি। নাম নেই স্ট্যান্ড বাই তালিকাতেও।
এশিয়া কাপ দল থেকে ব্যাটার শ্রেয়স আইয়ারের বাদ পড়া নিয়ে সরব প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার সঞ্জয় মঞ্জরেকার। বলেছেন, শ্রেয়সের না থাকাটা “আশ্চর্যজনক”। গত আইপিএল ক্রিকেটে পিবিকেএস-কে ফাইনালে তোলার মূল কারিগরকে উপেক্ষা করায় তোপ দেগেছেন মঞ্জরেকর। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল, ইনস্টাগ্রামে মাঞ্জরেকার বলেন, “শ্রেয়স আইয়ারের এবারের এশিয়া কাপের দলে না থাকা সত্যিই অবাক করার মতো। এই ব্যাটারকে একটা সময় জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, কারণ নির্বাচকমণ্ডলী তখন মনে করেছিল যে, ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে ঠিকমতো মেলে ধরতে পারেনি। কিন্তু এর প্রভাব তখন শ্রেয়স আইয়ারের উপর পড়েছিল। ইংল্যান্ডের ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে যখন সে আবার ফেরে, তখন শ্রেয়স যেভাবে ব্যাট করেছিল, যা আগে কখনও করেনি।”
মঞ্জরেকর আরও লেখেন, “শ্রেয়স সেই প্রত্যাবর্তন সিরিজে কিন্তু একটাও ভুল করেনি এবং তারপর আইপিএল ক্রিকেটে সেই ফর্মটিও বজায় রেখেছে। আমার মনে হয় না যে, গত আইপিএল মরশুমে কোনও ব্যাটসম্যানের এই ধরনের ফর্ম ছিল। তাঁর গড় ৫০-এর বেশি, স্ট্রাইক রেট ১৭০-এর বেশি এবং তাঁর ব্যাটিংও গোটা দলকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই একদশক বাদে প্রথমবার আইপিএল ক্রিকেটের ফাইনাল খেলেছে পঞ্জাব।”
”ফর্মে থাকা এহেন ক্রিকেটারকে এশিয়া কাপে নির্বাচন না করে পুরষ্কারই দিল জাতীয় নির্বাচক মণ্ডলী”। ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে কটাক্ষ জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় মঞ্জরেকরের।
