হাতে মাত্র আর কয়েকটা মাস।তারপরেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন হবে এই রাজ্যে। তার আগে নির্বাচন কমিশন সবদিক থেকে নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখতে শুরু করে দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি এক নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে যে সমস্ত বুথে ১২০০’র বেশি, ভোটার আছে সেইসব বুথকে বিভক্ত করতে হবে। কেবলমাত্র তাই নয় কোনও বুথ যেন সংশ্লিষ্ট ভোটারের বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটারের বেশি না হয়। আর সেই মোতাবেক রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর রাজ্যের সব জেলাশাসককে যে নির্দেশ পাঠিয়েছিল সেই মোতাবেক প্রায় ১৪ হাজার বুথ বাড়তে চলেছে এই রাজ্যে।
আর এই নিয়েই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল রাজ্যের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলিকে সেই বাড়তি বুথের তালিকা সবিস্তারে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন যা নিয়ে শুক্রবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে রাজ্যের স্বীকৃত আটটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সহ সমস্ত আধিকারিকেরা। যেখানে সব রাজনৈতিক দলগুলি অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের জেলা শাসকদের বিরুদ্ধে, কীভাবে গোটা রাজ্যে এই অতিরিক্ত বুথের সংখ্যা সঠিক বলে জানিয়েছেন জেলাশাসকেরা!
খুব স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন, ” কোন রাজনৈতিক দল সংবাদমাধ্যমে অথবা বাইরে কোথায় কী বলল তা নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই নির্বাচন কমিশনের, কেবলমাত্র রাজনৈতিক দলই নয় যদি কারুর কোন রকমের অভিযোগ থাকে তা কেবলমাত্র মুখে নয় সেই অভিযোগ লিখিত আকারে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিলেই তবেই গিয়ে নির্বাচন কমিশন তা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করবে অন্যথা কমিশনের পক্ষে সবার মৌখিক অভিযোগের সবকিছু খতিয়ে দেখার সময় নেই।”
এদিনের বৈঠক চলাকালীন রাজনৈতিক দলগুলি একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে গিয়ে রীতিমতো সরগরম হয়ে ওঠে সর্বদলীয় বৈঠক যেখানে এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই রীতিমতো তেতে ওঠে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।
শাসকদলের পক্ষে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সাফ জানিয়ে দেন এই রাজ্যে তাঁরা এসআইআর হতে দেবেন না।
আর এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ তাকে মানতেই হবে সকলকে, তাই কোন রাজ্যের সরকার কী বলল তা নিয়ে তারা চিন্তিত নন। তবে নির্বাচন কমিশন যেখানে সম্পূর্ণ গাইডলাইন দিয়েছিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে ২৯ শে অগাস্ট এর মধ্যে সবিস্তারে রাজ্যের এই বুথ বিন্যাস নিয়ে কমিশনের কাছে সবিস্তাদের রিপোর্ট পাঠানোর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক রাজ্যের স্বীকৃত আটটি রাজনৈতিক দলকে জানিয়েছেন আগামী ৮সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাঁদের যদি কোন অভিযোগ থাকে তা যেন লিখিত আকারে জমা দেন তাঁর কাছে। তারপরেই সব দিক খতিয়ে বিবেচনা করে সবিস্তারে বিস্তারিত রিপোর্ট যাবে নির্বাচন কমিশনে।
সাম্প্রতিক অতীতে সর্বদলীয় বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে এহেন ঘটনা একেবারেই বিরল।
পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সিদ্ধান্ত রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে সকলকেই। এখন দেখার বিষয় একটাই, এতদিন পর্যন্ত সব রাজনৈতিক দলগুলি সংবাদমাধ্যমে নয়তো বাইরে নিজেদের মনের কথা অভিযোগ আকারে সকলের কাছে তুলে ধরতেন এবার সেই অভিযোগ কি তাঁরা লিখিত আকারে জমা দেবেন নির্বাচন কমিশনের কাছে। প্রশ্ন এখন সেটাই।
