কলকাতা বিমানবন্দরের অস্থায়ী কর্মী ভোলা হালদারের হত্যার ঘটনায় এবার বড় আপডেট। বাগুইআটির ভাড়া বাড়িতে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে প্রধান অভিযুক্ত পলাতক স্ত্রী উপাসনা হালদার। উধাও স্ত্রীর খোঁজ না মিললেও, তার অতীতের ‘কুকর্ম’ও জানতে পেরেছে তদন্তকারী দল।
পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙ্গায় উপাসনার নামে আগেই দায়ের হয়েছিল একটি এফআইআর। প্রাক্তন স্বামীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে উপাসনার নামে করা হয়েছিল এফআইআর।
গত বুধবার বাগুইআটি থানার জগতপুর চড়কতলা এলাকায় একটি ভাড়াবাড়ির বাথরুম থেকে উদ্ধার হয়েছিল ভোলা হালদারের রক্তাক্ত দেহ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত স্ত্রী উপাসনা। বৃহস্পতিবার সেই ঘটনায় শুভ রাজবংশী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত মহিলাকে ঘটনার পর সে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল বলে অভিযোগ। আটক যুবকের সঙ্গে অভিযুক্ত মহিলার প্রণয়ঘটিত সম্পর্ক ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বেশ কয়েকমাস আগে ভোলা হালদার তাঁর স্ত্রী উপাসনা হালদারকে নিয়ে জগতপুরের চড়কতলা এলাকার একটি বাড়ির তিনতলায় ভাড়া থাকতে শুরু করেছিলেন। প্রতিবেশীদের বক্তব্য দমদম বিমানবন্দরের অস্থায়ী কর্মী ভোলা হালদারের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর চেঁচামেচি-ঝগড়াঝাটি চলত মাঝেমধ্যেই।
গত বুধবার দুপুরে তিনতলার ভাড়া ঘর থেকে আচমকাই ধোঁয়া বার হতে দেখেন স্থানীয়রা। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি স্থানীয়দের সঙ্গে বাড়িওয়ালাও পৌঁছে যায় সেখানে। বাড়িওয়ালার পরিবার ভেতরে গিয়ে দেখেন উপাসনা কিছু কাগজপত্র পোড়াচ্ছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, যে তার স্বামী কাজে গেছেন।
অভিযোগ, এর কিছুক্ষণ পরেই ভাড়াবাড়ি থেকে পালিয়ে যান উপাসনা হালদার। বেশ কিছুক্ষণ কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা কৌতুহলবশত ঘরের দরজায় ধাক্কা দিলে, কাউকে দেখা যায়নি। পরে বাথরুমে পড়ে থাকতে দেখা যায় উপাসনার স্বামী রক্তাক্ত ভোলা হালদারকে। পুলিশ এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। বাথরুম থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি রক্তমাখা কাস্তে। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র হিসেবে পুলিশ সেটি বাজেয়াপ্তও করেছে।
