ব্যাডমিন্টন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তিন সেটের লড়াইতে হেরে ব্রোঞ্জ পদকেই দৌড় শেষ করলেন সাত্ত্বিক সাইরাজ রঙ্কিরেড্ডি এবং চিরাগ শেট্টি। শনিবার প্যারিসে BWF বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালে ভারতীয় জুটি, চিনের লিউ ই এবং চেন বো ইয়াংয়ের কাছে ১৯-২১, ২১-১৮, ১২-২১-এ হেরে যায়। টুর্নামেন্টের নবম বাছাই জুটি হারলেও, প্রথম দুটি সেটে নজরকাড়া খেলেছে। ভারতীয়দের মধ্যে একমাত্র তাঁদের দখলেই রয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের দু দুটি ব্রোঞ্জ পদক। ২০২২ সালেও এই জুটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল।
ব্যাডমিন্টন বিশ্বকাপের প্যারিস ২০২৫ সংস্করণে, সাত্ত্বিক এবং চিরাগ হলেন ভারতের একমাত্র পদকজয়ী খেলোয়াড়। কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইতে পিভি সিন্ধুর দৌড় শেষ হয়েছিল। ধ্রুব কপিলা এবং তানিশা ক্রাস্টো মিক্সড ডাবলস জুটিও পদক জেতার সুযোগ পায়নি কোয়ার্টার পর্বের হারের সুবাদে। সেদিক থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে একটি পদক জিতে কমবেশি ১৪ বছর পর পোডিয়ামে দাঁড়ালেন সাত্ত্বিক এবং চিরাগ।
বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের নবম বাছাই, কোয়ার্টার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও বিশ্ব নম্বর ২ জুটি মালয়েশিয়ার অ্যারন চিয়া এবং সু উই ইককে পরাজিত করেছিলেন। তবে সেমিফাইনালের লড়াইতে আগের ছন্দ খুঁজে পাননি সাত্ত্বিক-চিরাগ। তাই একাদশ বাছাই চিনের লিউ ই এবং চেন বো-এর কাছে হেরে যান। হারের কারণও পরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন চিরাগ। বলেন. “আমরা আসলে ঠিক ছন্দে ছিলাম না। তৃতীয় সেটে ভালো শুরুও করতে পারিনি। তাছাড়া নির্ণায়ক সেটে খুব সহজ সহজ পয়েন্টও নষ্ট করেছি। আরও একটু বুদ্ধিমান হওয়া উচিত ছিল। তবে চিনা জুটিকে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে। বেশ ভালো খেলেছে, ওদের সার্ভও দুরন্ত ছিল।”
সেমিফাইনালের লড়াইতে প্রথম সেটে সাত্ত্বিক এবং চিরাগ ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরে লিউ এবং চেন ধীরে ধীরে তাঁদের ছন্দ ফিরে পান। ভারতীয় জুটি একটা সময় ব্যবধান বাড়িয়ে ৯-৩ করেছিল। কামব্যাক করে চিনা জুটি ১২-১২ তে নিয়ে আসে। এই সময় প্রাণবন্ত লড়াই সত্ত্বেও, সাত্ত্বিক ও চিরাগের চ্যালেঞ্জগুলি দুরন্ত ছন্দে ফিরিয়ে পয়েন্ট নিয়েছে চিনা জুটি। প্রথম সেটটি ২১-১৯ ব্যবধানেও তারা জিতে নেয়।
দ্বিতীয় সেটে ভারতীয় জুটির দুরন্ত প্রত্যাবর্তন।। শুরুতে ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরও চিনা জুটি ঘুরে দাঁড়িয়ে সেটের ফলকে ১৬-১৬ তে নিয়ে আসে। তবে এই পর্বে সাত্ত্বিকের রক্ষণাত্মক এবং চিরাগের আক্রমণাত্মক প্লে ভারতকে এগিয়ে রাখে। অবশেষে দ্বিতীয় সেটটি ২১-১৮ ব্যবধানে জিতে সাত্ত্বিক-চিরাগ জুটি সেটের ফল ১-১ করে দেন।
তৃতীয় তথা নির্ণায়ক সেটে ভারতীয় জুটির শুরুটা হয়েছিল খুব খারাপ। তারই ফায়দা তুলে লিউ এবং চেন ৭-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান। সাত্ত্বিক এবং চিরাগ মরিয়া হয়ে তাঁদের ছন্দ খুঁজে পেতে আক্রমণাত্মক শট খেলেছেন একই সঙ্গে মিসও করেছেন প্রচুর। চিনা জুটি আধিপত্য বিস্তার করে ১৭-৭-এ পৌঁছে যায়। ভারতীয় জুটি সেই ব্যবধান আর কমাতে পারেনি। লিউ/চেন তাঁদের প্রথম ম্যাচ পয়েন্ট ২০-১২ এ নিয়ে আসেন এবং আউট-অফ-বাউন্ড শাটল-এ ২১-১২ পয়েন্টে জয় নিশ্চিত করেন।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পরাজয় সত্বেও সাত্ত্বিক র্যাঙ্কিরেড্ডি এবং চিরাগ শেট্টি ইতিহাস তৈরি করেছেন। তাঁদের ব্রোঞ্জ পদক জয়, বিশ্বকাপ ব্যাডমিন্টনের ডাবলসে ভারতের মর্যাদাকে তুলে ধরেছে। এই জুটি যেমন ২০২২ সালে ব্রোঞ্জ জিতেছিল, তেমনি ২০১১ সালে জোয়ালা গুট্টা এবং অশ্বিনী পোনাপ্পা জিতেছিলেন মেয়েদের ডাবলসে ব্রোঞ্জ পদক। সবমিলিয়ে ব্যাডমিন্টনের বিশ্বকাপে ভারতীয় ডাবলস জুটির এটি তৃতীয় ব্রোঞ্জ পদক ।
