উত্পল পট্টনায়ক
কলকাতার শিয়ালদহ উড়ালপুল। মহানগরীর অন্যতম ব্যস্ত রাস্তার মধ্যে একটি। যানজট কমাতে সেই আশির দশকে এটি তৈরি হয়েছিল। সেই উড়ালপুলের স্বাস্থ্যের হাল কিন্তু মোটেই ভাল নয়। তাই ঢেলে সংস্কারের কাজের জন্য পাঁচ পর্যায়ে এক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। কেএমডিএ এবং কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, পুজো শেষ হওয়ার পরপরই জোর কদমে শুরু হবে শিয়ালদহ উড়ালপুলের স্বাস্থ্যের হাল ফেরানোর কাজ।
নির্মাতা কেএমডিএ শিয়ালদহ উড়ালপুলটি তৈরির সময় নাম রেখেছিল বিদ্যাপতি সেতু। তবে সেই নাম শুধু একটা ছোট্ট ফলক আর খাতায় কলমেই সীমাবদ্ধ। কারণ আমজনতার কাছে শিয়ালদহ উড়ালপুল হিসেবেই এর বেশি পরিচিতি। উড়ালপুলের নীচের গোটা অংশটাই হকারদের স্টলে ভর্তি। স্বভাবতই সংস্কারের কাজ শুরুর আগে ধাপে ধাপে সরাতে হবে হকারদের।
কয়েক বছর আগে সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল কেএমডিএ-র ডাকে আসা বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে। সংস্থার অত্যাধুনিক আধুনিক যন্ত্র হকারদের কারণে সেতুর নীচে ঢুকতেই পারেনি বলে অভিযোগ। এবার তাই সবদিক ছকে নিয়েই সংস্কারের কাজ করতে চায় কেএমডিএ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্লাইওভারটির মেরামতি এবং শক্তিশালী করা হবে ধাপে ধাপে। প্রতিটি পর্যায়ে কাজের সময় ফ্লাইওভারের নীচে থাকা স্টল কিংবা বিক্রেতাদের অস্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা হবে। কেএমডিএ-র এক কর্তা জানিয়েছেন, “হকারদের পর্যায়ক্রমে স্থানান্তরিত করার পরে কাজ শুরু করা হবে, সম্ভবত পুজোর পরে।”
সেতু সংস্কারের কাজের মধ্যে রয়েছে কার্বন ফাইবার মোড়ানো, স্টিলের জ্যাকেট লাগানো এবং ডেক স্ল্যাব মেরামতি। সেতুর বিম, কলাম এবং স্ল্যাবগুলিতে কার্বন ফাইবার রিইনফোর্সড পলিমার শিট স্থাপন করা হবে যাতে এর কাঠামোগত শক্তি এবং ভারবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সেতুটিকে আরও শক্তিশালীকরণের জন্য স্তম্ভগুলিকে স্টিলের জ্যাকেট দিয়ে মোড়ানো হবে। ডেক স্ল্যাবের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলি প্যাচ আপ করা হবে।
ফ্লাইওভারের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জড়িত বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, পিলারগুলিকে লোহার জ্যাকেট দিয়ে শক্ত করে কংক্রিটের কাজ করলে ভার বহন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কয়েক বছর আগেও শিয়ালদহ ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে ট্রাম চলাচল করত। ট্রাম চলাচল এখন বন্ধ হলেও আগের চলাচলে উড়ালপুলের স্বাস্থ্য কতটা বিগড়েছে তা এবার বিশদে দেখে নিতে চাইছেন সেতু বিশেষজ্ঞরা।
উড়ালপুল সংস্কারের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা মেনে নিয়েছে সেখানকার হকার ইউনিয়নের নেতাও। তবে একই সঙ্গে জানিয়েছেন, পুজোর সময়ই তাঁদের ব্যবসা তুঙ্গে ওঠে। পুজোর পরে আংশিকভাবে কাজ শুরু হলে, তাঁরাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন। কারণ ফ্লাইওভারের কাঠামোগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা খুব জরুরি।
কেএমডিএ-র কর্তাদের বক্তব্য, তাদের প্রতিটি পর্যায়ে কাজের সময় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন হকারকে অস্থায়ী ভাবে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। কলকাতা পুরসভা (কেএমসি) অস্থায়ীভাবে হকারদের স্থানান্তরের সেই প্রক্রিয়াটি দেখবে।
