ফের সেনা-পুলিস সংঘাতের আবহ কলকাতার রাজপথে। মঙ্গলবার রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে সেনাবাহিনীর একটি ট্রাক আটক করে কলকাতা পুলিশ। অভিযোগ, ওই ট্রাকটি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেছে। যদিও কলকাতা পুলিশের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে সেনা কর্তৃপক্ষ। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সোমবার মেয়ো রোডে গান্ধমূর্তির পাদদেশে তৃণমূলের ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ ভেঙে দিয়েছিল সেনাবাহিনী। তারই জবাব দিতে জওয়ানদের ট্রাক আটক করা হয়েছে। পুলিসের অভিযোগ এবং সেনাবাহিনী সেই অভিযোগ খণ্ডন করায় পরিস্থিতি যথেষ্টই উত্তেজনাকর।
কলকাতা পুলিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর ওই ট্রাকটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল এবং ট্রাফিক সিগন্যাল ভঙ্গ করে সেটি এগিয়ে যায়। সে কারণেই ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে ওই ট্রাকের পিছনেই ছিল কলকাতার নগরপাল মনোজ ভার্মার কনভয়। যে কারণে পুলিশ কর্মীদের কাছে বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে।
সিগন্যাল ভঙ্গের কথা অবশ্য মেনে নিয়েছেন ওই ট্রাকে থাকা এক জওয়ান। তিনি বলেছেন, যথেষ্ট ধীরগতিতেই চলছিল ট্রাকটি। তাঁরা জানতেন না যে, পিছনে নগরপালের গাড়ি আছে। তাছাড়া ডিভাইডারের কারণে সিগনাল দেখতে পাননি। সে কারণেই রেড লাইট থাকলেও তাঁরা অন্যদিকে মোড় নিয়েছিলেন।
প্রশ্ন উঠেছে, এই ঘটনা কি নিছকই ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে হল, নাকি সোমবার ফোর্ট উইলিয়ামে মঞ্চ ভাঙার ঘটনার জের? রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সোমবারের ঘটনার পর সেনা ও পুলিশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। সে কারণেই মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে শাসক দলের মঞ্চ ভাঙার পরের দিনই আটক করা হল সেনাবাহিনীর ট্রাক। অনেকেই মনে করছেন, সেনা ও পুলিশের এই দ্বন্দ্বের প্রভাব সাধারণ মানুষের উপরও পড়তে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে সেনা বা পুলিশ কেউই মুখ খোলেনি।
