সোমবার মেয়ো রোডে তৃণমূলের ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় সেনাবাহিনীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর সেই মন্তব্যর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সল্টলেকে মিছিল করল বিজেপি। মঙ্গলবার সকালে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার নেতৃত্বে এই মিছিল হয়। ইজেডসিসির উল্টোদিকে ঐকতানের সামনে থেকে শুরু হয় মিছিল। রাহুল সিনহার সঙ্গে মিছিলে পা মেলান বিজেপি নেত্রী পাপিয়া অধিকারী। রাহুল সিনহার দাবি, সেনাবাহিনীর প্রতি আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অবিলম্বে ভারতীয় সেনা এবং জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তাঁর ওই মন্তব্য সেনার জন্য অসম্মানজনক। এদিনের মিছিলে বিজেপির বহু কর্মী ও সমর্থক পা মেলান। তাঁদের সকলের হাতেই ছিল মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লেখা পোস্টার। মুখে ছিল স্লোগান।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও সোমবারের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আসলে অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর তৃণমূল বেকায়দায় পড়েছে। সে দিক থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই মুখ্যমন্ত্রী নাটক করছেন। মুখ্যমন্ত্রী গোটা ঘটনা নিয়ে অসত্য কথা বলছেন। তিনি সেনাবাহিনীর কাছ থেকে মাত্র দুদিনের অনুমতি নিয়েছিলেন। কিন্তু একমাস পেরিয়ে গেলেও মঞ্চ খোলেননি। বেশি সময় মঞ্চ রাখতে গেলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুমতি নিতে হয়। সেই অনুমতি তিনি নেননি। এখানে বিজেপি বা প্রধানমন্ত্রীর করার কিছুই নেই। তিনি সবই জানেন তাও তিনি অসত্য বলছেন। আসলে এসবই করছেন তৃণমূলের দুর্নীতি থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতে। মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে সুকান্ত মজুমদার আরও বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর ভয়ে যদি ২০০ জওয়ান পালিয়ে গিয়ে থাকে তবে তো তাঁর পাকিস্তানে যাওয়া উচিত। পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের পাশে দাঁড়ানো উচিত মুখ্যমন্ত্রীর। সুকান্ত আরও বলেন, উনি সেনার দিকে আঙুল তুলছেন। অথচ উনি নিজে প্রধানমন্ত্রীকেও এরাজ্যে সভা করার বা তার কপ্টার নামার জন্য হেলিপ্যাড তৈরির অনুমতি দেন না। যোগী আদিত্যনাথকে তাঁর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে সভা করার অনুমতি দেননি। তাঁর মুখে এ ধরনের কথা শোভা পায় না। আসলে সব কিছু নিয়েই রাজনীতি করা মুখ্যমন্ত্রীর অভ্যাস। মেয়ো রোডে মঞ্চ খোলা নিয়েও তিনি সেই রাজনীতির নাটক করছেন।
