মন্ত্রিসভার পাশ করা বিল রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি অনির্দিষ্টকালের জন্য ফেলে রাখতে পারেন কি? এই বিতর্কে রাষ্ট্রপতির মতামত জানতে চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই জবাবের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি রেফারেন্স মামলার ষষ্ঠ দিনের শুনানিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। যদি রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা না মানেন, তবে কি তাঁদের আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করা সম্ভব?
প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই-এর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে এই প্রশ্ন ওঠে। বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিক্রম নাথ, পি এস নরসিমহা এবং এ এস চন্দুরকর।
মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি যুক্তি দেন, “যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হয়, তবে বিলকে ‘ডিমড অ্যাসেন্ট’ বা অনুমোদিত বলে ধরা যেতে পারে।” তিনি বলেন, রাজ্যপাল কোনও বিল অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখতে পারেন না। বিল বাতিল বা মঞ্জুর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা কেবল মন্ত্রিসভার হাতে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, আলাদা আলাদা ক্ষেত্রে বিল মঞ্জুর করতে বিলম্ব হলে ক্ষতিগ্রস্তরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। তখন আদালত নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারে। কিন্তু সবক্ষেত্রে একই রকম সময়সীমা চাপিয়ে দেওয়া হলে, তা সংবিধান সংশোধনের সমতুল্য হয়ে যাবে। বিচারপতি বিক্রম নাথ মন্তব্য করেন, “টাইমলাইন চাপিয়ে দেওয়া মানে কার্যত সংবিধান বদলে দেওয়া।”
সিংভি বলেন, “রাজ্যপাল সুপার মুখ্যমন্ত্রী নন, তিনি কোনও বিলের চূড়ান্ত বিচারকও নন। অসাংবিধানিক বিল হলে আদালতই তা দেখবে। প্রতিদিনই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বহু বিল পাস হয়, কিন্তু শেষ বিচারে আদালতই সাংবিধানিক বৈধতা নির্ধারণ করে।”
সাংবিধানিক বেঞ্চ আরও প্রশ্ন তোলে, আদালত কি রাজ্যপালের জায়গায় বসে বিল মঞ্জুর বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে? সিংভির জবাব, যদি রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি বিচারব্যবস্থার পর্যালোচনা থেকে মুক্ত থাকেন, তবে তাঁদের ক্ষমতা অসীম হয়ে যাবে, যা সংবিধানের মূল কাঠামোর পরিপন্থী।
৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্যপাল কোনও বিল আটকে রাখলে সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। পুনরায় পাশ হওয়া বিলে এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো বিল নিয়ে সিদ্ধান্ত তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
এই রায়ের বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ১৩ মে সংবিধানের ১৪৩ (১) ধারা ব্যবহার করে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য জানতে চেয়ে রেফারেন্স করেন। তিনি ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন তোলেন। এর মধ্যে রয়েছে :
•বিল পেশ হলে রাজ্যপালের হাতে কী কী সাংবিধানিক বিকল্প থাকে?
•তিনি কি মন্ত্রিসভার পরামর্শ মানতে বাধ্য?
•তাঁর সিদ্ধান্ত কি আদালতের বিচারযোগ্য?
•সংবিধানে সময়সীমা না থাকলে আদালত কি নিজে সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে?
শীর্ষ আদালতের সাংবিধানিক বেঞ্চে এই সংবেদনশীল মামলার শুনানি বুধবারও চলবে।

