মাঠের বাইরে এবার এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকায় ভারতীয় হকি দলের খেলোয়াড়রা। টিম ইন্ডিয়ায় তারকা রুপিন্দর পাল সিং ও গুরবিন্দর সিং চান্ডি এবং প্রাক্তন খেলোয়াড় যুগরাজ সিং মাঠের বাইরেও ব্রতী হয়েছেন এক মানবিক কর্মকাণ্ডে। ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত পঞ্জাবের ২৩ টি জেলার প্রায় ২ হাজার গ্রাম। যার মধ্যে গুরুদাসপুর জেলার অবস্থা উদ্বেগজনক। এখানেই ত্রাণ এবং উদ্ধারকার্যে অংশ নিয়েছেন ভারতীয় হকির তিন মুখ।
ভয়াবহ বন্যায় ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। ক্ষতির কবলে পড়েছেন সাড়ে ৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ। বন্যা কবলিত অঞ্চলগুলিতে ত্রাণ এবং উদ্ধারকার্য শুরু করেছে সেনা, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন। হকির ৩ তারকাও শামিল হয়েছেন এই অভিযানে। কিংবদন্তি খেলোয়াড় যুগরাজ সিং, রুপিন্দর পাল সিং এবং গুরবিন্দর সিং চান্ডি তিনজনেই পঞ্জাব পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক।
যুগরাজ জানিয়েছেন, বন্যা কবলিত গুরুদাসপুরে বিএসএফ, সেনাবাহিনী, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং এনডিআরএফ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় একটি দল হিসেবে কাজ করছে। এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “উদ্ধার অভিযান ছিল প্রাথমিক দায়িত্ব। এর পর রেশন, ওষুধ এবং অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়। এখন মহামারী রোধে ডাক্তার এবং বিভিন্ন এনজিওর সহায়তায় মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে।”
টোকিও অলিম্পিক্সের ব্রোঞ্জ পদকজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য তথা পেনাল্টি কর্নার বিশেষজ্ঞ রুপিন্দর পাল জানিয়েছেন, এটি তাঁর জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে উদ্ধার অভিযানে ৩ জন ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণ বাড়তি সুবিধা প্রদান করেছে বলে দাবি করেন যুগরাজ। তাঁর কথায়, “মাঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা এখানে কাজে আসছে। এর পাশাপাশি একজন খেলোয়াড় জীবনে অনেক উত্থান-পতনের সাক্ষী থাকেন। যা তাঁকে মানসিক এবং শারীরিকভাবে খুব শক্তিশালী করে তোলে। যেটি এমন পরিস্থিতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।”
উল্লেখ্য, যুগরাজ ছিলেন ২০০১ সালে যুব বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের অন্যতম মুখ। এর পর ২০০২ সালে বুসান এশিয়ান গেমসে দেশের রুপো জয়ের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু ২০০৩ নাগাদ একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইতি ঘটে তাঁর গৌরবময় কেরিয়ারের। এদিন তিনি বলেন, “আমাদের কাজ হল রেশন সরবরাহ নিয়ে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঠিক সময়ে অভাবীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।”
