বর্তমানে মেয়েদের কাছে শিক্ষা, কেরিয়ার , চাকরি , বিদেশ যাওয়া এতটাই গুরুত্ব পায় যে জীবনের ক্রিম সময়টাই সেসবের পেছনে ব্যয় হয় । আসলে এখন কেউই নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে মা হওয়া তো দূরের কথা, তার দশ হাত পেছনে বিয়ে করার কথা পর্যন্ত ভাবতে পারে না। ফলে দেরিতে বিয়ে, দেরিতে বাচ্চা। ইদানিং স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন এভাবে চলতে থাকলে নানা রকম সমস্যা হতে পারে হবু মায়ের শরীরে । কেননা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর গুণমান কমতে থাকে এবং বন্ধ্যাত্ব ক্রমশ শরীরে বাসা করতে থাকে তার সঙ্গে নানাবিধ হরমোনাল সমস্যা ইত্যাদির ফলে মা হওয়া অনেকটা জটিল হয়ে যায় । স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর উষা প্রিয়ংবদার এটাই যুক্তি।
তবে পরিস্থিতি কিন্তু কিছুটা পাল্টেছে আর্থ-সামাজিক দিক থেকে বিচার করলে এখন আর বেশি বয়সে মা হওয়াকে খুব একটা ভীতির চোখে দেখা হয় না।
এই ‘বলি’ সুপারস্টারদের কথাই ভাবুন না, ঐশ্বর্য রাই থেকে দীপিকা পাড়ুকোন, ক্যাটরিনা কইফ, জুহি চাওলা সবাই মা হয়েছেন তিরিশের কোঠার শেষের দিকে আর সবাইকে চমকে দিয়েছেন বিপাশা বসু। তেতাল্লিশ বছর বয়সের মা হয়েছেন তিনি।
চিকিৎসকরা বলছেন বেশি বয়সে মা হওয়ার ঝুঁকি যেমন আছে তেমনি অ্যাসোসিয়েট রিপ্রোডাক্টিভ পদ্ধতির ফলে অনেকেই এখন বেশি বয়সে মা হতে চাইছেন। যেমন ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফ যেখানে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু শরীরের বাইরে নিষিক্ত করে ইউটেরাসে প্রতিস্থাপন করা হয় ।এছাড়া আছে ডিম্বাণু সংরক্ষণ পদ্ধতি। এর ফলে কেউ যদি পঁচিশ বছর বয়সে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে রাখেন আর তিনি মা হতে চান ৩৫ বছর বয়সে তাহলে তাঁর ডিম্বাণুর বয়স ২৫ বছরের থাকবে। এইসব নানান কারণ চিন্তা করে এখনকার প্রগতিশীল নারী সমাজ আগে নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছেন। অর্থ , চাকরি , ভালো কেরিয়ার সব করে তারপরে মন দিচ্ছেন সন্তান ধারণের দিকে।
অবশ্য চিকিৎসকরা একেবারে যে আশার আলো দেখাননি তা নয় । দেরি করে সন্তান নিলে যবে থেকে আপনি সন্তান ধারণের পরিকল্পনা করছেন তবে থেকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। নিয়মিত চেকআপ, হেলথ স্ক্রিনিং, ডায়েট , এক্সারসাইজের মধ্য দিয়ে চলতে হবে এমনকী ৩০ -এর শেষের দিকে কিংবা ৪০ -এর শুরুতে সুস্থ সবল সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এমন মায়ের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আর নিজের কেরিয়ার গোছানো হয়ে গেলে নিজের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকলেও মনে একটা শান্তি কাজ করে। এর ফলে মন দিয়ে সন্তান পালন করা যায় আর বাচ্চারাও মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয় না।
তবে সব ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরী।
