দিল্লির অভিজাত বসন্তকুঞ্জ এলাকার এক আশ্রমের প্রধান স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী-র বিরুদ্ধে একাধিক নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগের পর শ্রী শৃঙ্গেরী মঠ প্রশাসন তাকে পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করেছে।
এটাই প্রথম নয়, এর আগেও তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ উঠেছিল। ২০০৯ সালে প্রতারণা ও যৌন হয়রানির মামলা দায়ের হয়েছিল ডিফেন্স কলোনিতে এবং ২০১৬ সালে বসন্তকুঞ্জে এক নারী তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন।
ওড়িশার বাসিন্দা স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী প্রায় ১২ বছর ধরে ওই আশ্রমে থাকছিলেন এবং একই সঙ্গে আশ্রমের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, তিনি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ বৃত্তিতে ভর্তি হওয়া শ্রী শারদা ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্টের ছাত্রীদের হয়রানি করেছেন। তদন্তে ৩২ জন ছাত্রীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৭ জন সরাসরি অপমানজনক ভাষা, অশ্লীল মেসেজ এবং অনিচ্ছুক শারীরিক স্পর্শের অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, স্বামী চৈতন্যানন্দ তাদের ব্ল্যাকমেল করতেন ও হুমকি দিতেন। আরও অভিযোগ, তিনজন শিক্ষিকা ও প্রশাসনিক সদস্য অভিযুক্তকে সহযোগিতা করেছিলেন এবং ছাত্রীদের চাপে রাখতেন। যদিও পুলিশ ওই তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, তবে তাদের ভূমিকা পুরোপুরি স্পষ্ট হবে স্বামী চৈতন্যানন্দ গ্রেফতার হওয়ার পর।
ওই সন্ন্যাসী কী ধরনের মেসেজ মহিলাদের পাঠাতেন তার কিছু নমুনা ইতিমধ্যেই পুলিশ পেয়েছে। একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে লেখা আছে, ‘আমার ঘরে এস, বিদেশে বেড়াতে নিয়ে যাব। তোমার কোন খরচা লাগবে না।’ অপর একটি মেসেজে তিনি এক ছাত্রীকে ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
সূত্রের খবর, আসলে এই ব্যক্তি মূলত হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে নানা প্রলোভন দিত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা মহিলাদের, ছাত্রীদের। তাতে কাজ না হলে চলত ব্ল্যাকমেইল ও হুমকি।
পুলিশ তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে, বেশ কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং হার্ডডিস্ক ও ভিডিয়ো রেকর্ডার বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, ইনস্টিটিউটের বেসমেন্ট থেকে জাতিসংঘের নকল নম্বর প্লেট লাগানো একটি ভলভো গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে, যা ব্যবহার করতেন স্বামী চৈতন্যানন্দ। কীভাবে তিনি কূটনৈতিক নম্বর প্লেট পেয়েছিলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, যদিও আগ্রায় তার সর্বশেষ অবস্থান ট্র্যাক করা হয়েছে, তিনি নিয়মিত অবস্থান বদল করছেন এবং সচরাচর মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন না।
