
সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের মৃত্যুর তদন্তে অসম পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল আরও ২ জনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে প্রয়াত শিল্পীর ব্যান্ডমেট শেখর জ্যোতি গোস্বামী এবং সহ-গায়ক অমৃতপ্রভ মহন্তকে। শুক্রবার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তদের ১৪ দিনের সিআইডি (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) হেফাজতে পাঠিয়েছে। প্রসঙ্গত গত বুধবারই, জ়ুবিন গর্গের আপ্তসহায়ক সিদ্ধার্থ শর্মা ও নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালের আয়োজক শ্যামকানু মহন্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
সূত্রের খবর, অভিযুক্ত ৪ জনকে একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করবে অসম পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। জ়ুবিন গর্গ মৃত্যুতদন্তের শুরুর দিকে শেখর জ্যোতি এবং অমৃতপ্রভকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছিলেন তদন্তকারী দলের সদস্যরা। টানা ৬ দিন ধরে তাদের দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে গ্রেফতার করে আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযুক্ত এই দু’জন গত ১৯ সেপ্টেম্বর ‘নর্থইস্ট ফেস্টিভ্যাল’-এর সেই ইয়ট পার্টিতে ছিলেন। সেখানেই জুবিন গর্গ সাঁতার কাটতে নামেন। তার পরে সেই অঘটন। সূত্রের খবর, তদন্তকারী দলের তরফে জানানো হয়েছে যে, শেখরজ্যোতি গোস্বামীকে জ়ুবিনের খুব কাছেই সাঁতার কাটতে দেখা গিয়েছে। সেই সময় গোটা মুহূর্ত নিজের মুঠোফোনে রেকর্ড করতেও দেখা অমৃতপ্রভ মহন্তকে।

ইয়ট পার্টিতে জলে নামার সময়ে, শুরুতে বছর ৫২-র জ়ুবিনের পরনে লাইফ জ্যাকেট থাকলেও পরে কিন্তু তা ছিল না বলে জানা গিয়েছে। কেন এবং কী ভাবে এত বড় গাফিলতি, সেই প্রশ্নই উঠেছে মৃত্যুতদন্তের জেরা পর্বে। আপ্তসহায়ক সিদ্ধার্থ শর্মা এবং ফেস্টিভালের আয়োজক শ্যামকানু মহন্তের বিরুদ্ধে গর্গের মৃত্যু ঘিরে খুন, অপরাধমূলক হত্যাকাণ্ড, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং অবহেলার কারণে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল।অসম পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রধান তথা ডিজি-সিআইডি মুন্না গুপ্তা বলেছেন, “তদন্ত চলছে এবং তদন্তের স্বার্থেই এই মুহূর্তে বিশদে তা জানানো সম্ভব নয়। তবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১০৩ (হত্যা) এর অধীনে অভিযোগ যুক্ত করেছি,”।
এসআইটি প্রধান গুপ্তা আরও বলেন, “আমাদের দল সিঙ্গাপুর যেতে প্রস্তুত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য। সেদেশে যাওয়ার অনুমতি পেতে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। আমরা যথাযথ ভাবে আমাদের অনুরোধটি পাঠিয়েছি এবং অনুমোদন পেলেই সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তদন্তকারীর দলের কিছু সদস্য। এর জন্য কিছুটা সময় লাগব।” এদিকে প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পীর স্ত্রী গরিমা গর্গ সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, বিচার ব্যবস্থার উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, “তদন্ত চলছে, তাই এখনই এই বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়।আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আমরা আমাদের আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাব এবং তদন্ত সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। শীঘ্রই জানতে পারব যে সেদিন আসলে কী ঘটেছিল। জানতে চাই, কে কী কারণের জন্য দোষী। যদি কেউ দায়ী থাকেন, তবে খুব শীঘ্রই তাঁদের শাস্তি দেওয়া হবে।”
