
কাশি সিরাপ খেয়ে মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানে সব মিলিয়ে ১১ শিশুর মৃত্যুতে এবার জারি হল বিশেষ নির্দেশিকা। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস বা স্বাস্থ্য মহাপরিচালক শুক্রবার এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, ২ বছরের নিচে শিশুদের কাশি বা সর্দির জন্য কাফ সিরাপ দেওয়া যাবে না।

বলা হয়েছে ৫ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রেও এটি সুপারিশযোগ্য নয়।ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে কাশি ও ঠান্ডার ওষুধ ২ বছরের নিচে শিশুদের একেবারেই দেওয়া যাবে না।পাশাপাশি ৫ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রেও সুপারিশের জন্য সাধারণভাবে এই ওষুধ অনুপযুক্ত। তবে শিশুদের বয়স ৫ বছরের বেশি হলে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের কঠোর পরামর্শে সঠিক ডোজ মেনে তবেই দেওয়া যেতে পারে। ওই নির্দেশিকায় জনসাধারণকে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন মেনে চলার বিষয়ে সচেতন থাকার ও করার আহ্বান জানানো হয়েছে।ওষুধের ক্লিনিকাল যাচাই করা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নজরে রাখা জরুরি বলে জানানো হয়েছে।

অভিযোগ মধ্যপ্রদেশে নকল কাশির সিরাপ খাওয়ানোর পর ৯ শিশুর মৃত্যু হয়। রাজস্থানে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে শিশুদের ঠান্ডা-কাশি ও জ্বর হয়েছিল।এরপর কিডনির সমস্যা বাড়তে থাকে এবং মৃত্যু ঘটে। তবে এজন্য ‘কোল্ড্রিফ’ সিরাপকে দায়ী করা হচ্ছে। তদন্ত চললেও মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়ার এক শিশু বিশেষজ্ঞের অভিযোগ শিশুমৃত্যু এবং কিডনির ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত ওষুধটি হল ‘কোল্ড্রিফ’ সিরাপ।গোটা ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি , সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে প্রাথমিক পরীক্ষায় কাশির সিরাপে ডাইইথিলিন গ্লাইকোল বা ইথিলিন গ্লাইকোল মেলেনি, যা কিডনি বিকলের প্রধান কারণ বলে পরিচিত।
