.

ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা ঘটল সোমবার সকালে। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই-এর দিকে এক আইনজীবী জুতো ছুড়ে মারার চেষ্টা করেন এবং চিৎকার করে বলেন, “সনাতন ধর্মের অপমান বরদাস্ত করব না!” যদিও জুতোটি বিচারপতির কাছে পৌঁছয়নি। ঘটনাটি আদালতে উপস্থিত সবাইকে স্তম্ভিত করে দেয়।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের কক্ষ নং ১-এ মামলার শুনানি চলছিল। হঠাৎই এক আইনজীবী বেঞ্চের দিকে তার জুতো খুলে ছুড়ে দেন। উপস্থিত পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে আটক করে কক্ষের বাইরে নিয়ে যান।
অভিযুক্তের নাম রাকেশ কিশোর (বয়স প্রায় ৭১ বছর) বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তার কাছ থেকে একটি নোটও উদ্ধার হয়েছে, যেখানে হিন্দিতে লেখা ছিল “সমস্ত সনাতনীকে আমার বার্তা, সনাতন ধর্মের অপমান সহ্য করব না”।

তদন্তে জানা গেছে, তিনি দিল্লি ও সুপ্রিম কোর্টের একাধিক আইনজীবী সংগঠনের সদস্য ছিলেন।
কিছু দিন আগে, একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই মন্তব্য করেছিলেন, “যদি দেবতা অপমানিত হন, তাহলে তাঁকেই বলুন কিছু করতে।” এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এবং কিছু সংগঠন তা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বলে দাবি করে। পুলিশের অনুমান, সেই বক্তব্যেই ক্ষুব্ধ হয়ে রাকেশ কিশোর এই চরম পদক্ষেপ করেন।
ঘটনার মুহূর্তেও বিচারপতি গাভাই শান্ত ছিলেন। তিনি আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, “এতে আমি বিচলিত হইনি। আদালতের কাজ স্বাভাবিকভাবেই চলবে।” এরপর তিনি শুনানি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন, যাতে আদালতের কাজ ব্যাহত না হয়।
অভিযুক্তকে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল জানান, প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ফলে অভিযুক্তকে সতর্কবার্তা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের দাবি, তার উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র “ধর্মীয় অসম্মানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ”, কাউকে আঘাত করা নয়।
এই ঘটনার পর আদালতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে এক আইনজীবী আদালতের ভিতরে জুতো খুলে আক্রমণের চেষ্টা করতে পারলেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে আদালতের প্রবেশপথে নিরাপত্তা আরও কড়া করা হবে।
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, “এটি লজ্জাজনক ঘটনা। বিচারালয় দেশের ন্যায়বিচারের প্রতীক। এখানে কোনওভাবেই এই ধরনের আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। ধর্মীয় ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়িয়ে এমন আচরণ আইনজীবী সমাজের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে। এই ঘটনা ভারতের বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ও শৃঙ্খলার উপর আঘাত।”
অন্যদিকে পুলিশ ওই আইনজীবীকে ছেড়ে দিলেও বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে তাঁকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার কথা জানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
