
উত্তরবঙ্গের বন্যাপীড়িত এলাকায় প্রশাসনিক পরিদর্শনে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে জলমগ্ন উত্তরবঙ্গ থেকে দিল্লির রাজনীতি নিয়েও তিনি সমান তৎপর। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই-এর উপর আক্রমণের ঘটনায় সোমবার তাঁর দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং সংবিধান রক্ষার আহ্বান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র রাজ্য রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নন।
এক্স-এ পোস্ট করে মমতা লেখেন, “আমি ভারতের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইজির উপর সুপ্রিম কোর্ট কক্ষে হওয়া আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাই। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং কার্যত দেশের সংবিধানের ওপর আঘাত।”
তিনি আরও লিখেছেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে বিচারপতি গাভাইজিকে শ্রদ্ধা করি এবং উত্তরবঙ্গের বন্যাপীড়িত অঞ্চল থেকে আমি তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”
এই সময় মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিদর্শনে রয়েছেন। তবে প্রশাসনিক ব্যস্ততার মধ্যেও জাতীয় ইস্যুগুলিতে তাঁর দ্রুত প্রতিক্রিয়া, কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ও আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিচারপতির উপর আক্রমণ প্রসঙ্গে মমতার মন্তব্য কেবল মানবিক নয়, এটি এক রাজনৈতিক বক্তব্যও। সংবিধান রক্ষার কথা তুলে তিনি কার্যত দিল্লির ক্ষমতাসীন শাসকের প্রতি প্রতীকী বার্তা দিয়েছেন।
গত লোকসভা নির্বাচনে ফিরে পাওয়া সাফল্যের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চাইছেন। ‘ইন্ডিয়া’ জোটে তাঁর দল এখনও সক্রিয় হলেও, বহু ইস্যুতে তিনি স্বাধীন অবস্থান নিচ্ছেন, যা কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তাঁর “কিংমেকার” ভূমিকার সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরবঙ্গে তাঁর প্রশাসনিক তৎপরতা যেমন রাজ্যের ভিতরে জনসংযোগ বাড়াচ্ছে, তেমনই সংবিধান রক্ষার বার্তা দিয়ে তিনি জাতীয় স্তরে নিজেকে এক দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন।
মমতার এই মন্তব্য তাই কেবল একটি প্রতিক্রিয়া নয়, বরং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তাঁর পুনরুত্থানের সূক্ষ্ম ইঙ্গিত। উত্তরবঙ্গে থাকলেও তাঁর নজর স্পষ্টতই দিল্লির দিকে— সংবিধান, বিচারব্যবস্থা ও বিরোধী রাজনীতির সমীকরণের ওপর।
