
বিহারের আগামী মাসের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলছে। লোক জনশক্তি পার্টি (এলজেপি) প্রধান চিরাগ পাসওয়ান এবং রাজনৈতিক কৌশলবিদ থেকে রাজনীতিক হওয়া প্রশান্ত কিশোরের মধ্যে সম্ভাব্য জোট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এলজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে, “রাজনীতিতে দরজা কখনও বন্ধ হয় না।”
চিরাগ পাসওয়ান এবং প্রশান্ত কিশোরের সম্ভাব্য সমঝোতার জল্পনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন এলজেপি ও বিজেপির মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। সূত্রের খবর, চিরাগ পাসওয়ান ২৪৩ আসনের মধ্যে ৪০টি আসন দাবি করেছেন। গত বছরের লোকসভা নির্বাচনে এলজেপি ৫টি আসনে লড়ে সবকটিতেই জয়ী হয়েছিল, যা তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। তবে বিজেপি ২৫টির বেশি আসন দিতে নারাজ।
পাসওয়ান-কিশোর জোট কি সম্ভব? হ্যাঁ। কিন্তু সম্ভাবনা কতটা? খুব বেশি নয়। রাজ্যের প্রচলিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুজনই কিছুটা আলাদা ধাঁচের নেতা। জোট হলে এলজেপি আরও বেশি আসনে লড়ার সুযোগ পেতে পারে, তবে রাজনীতিতে নবাগত কিশোরের সঙ্গে হাত মেলানো চিরাগের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় খুব একটা সহায়ক নাও হতে পারে।
২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ১২২ আসন। বিজেপি-জেডিইউ জোট এবং বিরোধী শিবিরের আরজেডি নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধনকে পেছনে ফেলে ওই সংখ্যা ছোঁয়া এলজেপি-জন সুরজ জোটের পক্ষে নিঃসন্দেহে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
তবে কিশোরের সঙ্গে জোটের গুঞ্জন এলজেপির একটি কৌশলও হতে পারে। তা হল বিজেপির উপর আরও চাপ তৈরি করা, যেন দলটি “সম্মানজনক” আসন ছেড়ে দেয়। চিরাগ পাসওয়ান সম্প্রতি বলেছেন, “আমি সম্মানজনক আসন চাই, কিন্তু সেই সংখ্যা কত সেটা প্রকাশ্যে বলা জোট রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে অনুচিত।”
তিনি আরও বলেন, “আমি তরকারিতে লবণের মতো, প্রতিটি আসনে ২০ থেকে ২৫ হাজার ভোটে প্রভাব ফেলতে পারি। আমি এখনও জোটে আছি, তবে প্রয়োজনে বেরিয়ে যাওয়ার পথও খোলা আছে।”
বিজেপি অবশ্য চিরাগের এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। দলীয় সূত্রের দাবি, চিরাগ এখনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি অনুগত এবং এই অবস্থান মূলত এলজেপির অভ্যন্তরীণ চাপ সামাল দেওয়ার কৌশল।
বিজেপির সূত্র জানিয়েছে, ভোটের তারিখ ঘোষণার আগে আসন ভাগাভাগির আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত কৌশলগত, যাতে টিকিট না পাওয়া নেতাদের দলবদল রোধ করা যায়।
এদিকে এলজেপি সূত্র বিজেপি-জেডিইউ-র মধ্যে ২০০ আসন ভাগাভাগির খবরও উড়িয়ে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, “কোনও নেতা কি আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণা করেছেন?” এবং এলজেপি স্পষ্ট করেছে, তাদের আলোচনা হবে বিজেপির সঙ্গে, জেডিইউ-র সঙ্গে নয়, যা নীতীশ কুমারের দলের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত বহন করে।

আসন ভাগাভাগি ছাড়াও চিরাগ পাসওয়ানের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা এই সম্পর্কের অন্য মাত্রা। মঙ্গলবার সকালে এলজেপি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে, “অবকি বার, যুব বিহারী”।
এই পোস্টের মাধ্যমে চিরাগ পাসওয়ানকে নীতীশ কুমারের উত্তরসূরি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে, যদিও তিনি প্রকাশ্যে নীতীশকেই সমর্থন জানিয়েছেন। বিজেপির গত লোকসভা নির্বাচনের স্লোগানের সঙ্গেও মিল রেখে বার্তাটি দেওয়া হয়েছে, যাতে এলজেপির বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ভাবমূর্তি বজায় থাকে।
এলজেপি সূত্রের বক্তব্য, দলের এখন মূল লক্ষ্য “বিহারে চিরাগ পাসওয়ানের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা”। রাজ্যের রাজনীতিতে এখন চিরাগ বনাম তেজস্বী, এই দুই তরুণ নেতার নেতৃত্বের লড়াই ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।
অন্যদিকে, চিরাগ ও তেজস্বীর মধ্যে সম্ভাব্য কোনও জোটের গুঞ্জনও কার্যত থেমে গেছে। কারণ, বিরোধী শিবিরে কংগ্রেসের উপস্থিতিতে চিরাগের জন্য নেতৃত্বের জায়গা পাওয়া কঠিন, এবং সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাও আরও ক্ষীণ।

