
জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটার বিপর্যস্ত এলাকায় ত্রাণ দিতে গিয়ে একদল উন্মত্ত জনতার হাতে নিগৃহীত হয়েছেন বিজেপি সংসাদ খগেন মুর্মু। সোমবার সকালে মাথায় পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছেন মালদহ উত্তর কেন্দ্রের ২ বারের পদ্ম সাংসদ। আক্রান্ত হয়েছেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও। সেই হামলার ২৪ ঘণ্টা পরেও, এখনও পর্যন্ত কেউই গ্রেফতার হয়নি।
অথচ গোটা ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। হামলাকারীদের মধ্যে নির্দিষ্ট করে ৮ জনের বিরুদ্ধে নাগরাকাটা থানাতেই অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অভিযুক্তদের তালিকায় ছিল মাসুম আখতার, মহম্মদ মিলন, সাইবুল হক, মহম্মদ সানু, পিঙ্কি বেগম, রাহুল আনসারি, আইনুল আনসারি এবং রমজান আলি। অভিযোগ দায়ের করে বিজেপি স্থানীয় নেতা-কর্মীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখান।
জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্তা মঙ্গলবার জানিয়েছেন যে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। বলেছেন, ”আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।” পদ্ম শিবিরের অভিযোগ, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তায় এখনও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে অভিযুক্তরা। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে আলিপুরদুয়ারের পদ্ম সাংসদ মনোজ টিগ্গার নেতৃত্বে মশাল মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। দিল্লির বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন পদ্ম শিবিরের নেতা ও কর্মীরা।
নাগরাকাটার ঘটনা ঘিরে সোমবারই তাঁর ফেসবুক পোস্টে হামলাকারী ৪ জনের ছবি সহ নাম উল্লেখ করে তোপ দেগেছিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি ছিল ওই ৪ জন হলেন সইফুল হক, আইনুল আনসারি, রমজান আলি এবং পিঙ্কি খাতুন। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ যাওয়ার পথে পুলিশকে বিকেল পর্যন্ত ‘সময় বেঁধে’ দিয়েছেন শুভেন্দু। বলেছেন, ‘ভিডিয়োতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে অথচ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।’ পুলিশ পদক্ষেপ না করলে আদালতে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নন্দীগ্রামের পদ্ম বিধায়ক।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “এই রাজ্যে কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, কোনও আইন-শৃঙ্খলা বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। এই সরকার কার্যত একটা লুটেরাদের সরকার হয়ে গেছে।” নাগরাকাটার ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে সাংসদ এবং বিধায়কের উপর আক্রমণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন।
সবমিলিয়ে নাগরাকাটায় সোমবার বিজেপির সাংসদ ও বিধায়কের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘিরে এখন তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি।
