
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ফের উত্তেজনার পারদ চড়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী শিয়ালকোট অঞ্চলে একাধিক ট্যাংক ও ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতও লাইন অফ কন্ট্রোল (LoC) ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত জুড়ে সতর্কতা জোরদার করেছে। নজরদারিও চলছে পুরোদমে।
সামরিক সূত্রে খবর, পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর চিনের তৈরি SH-15 হাউইটজার কামান এবং বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক নজরদারি ও যোগাযোগ দমনকারী (Electronic Warfare) সরঞ্জামও সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন ভারতীয় সেনার সাম্প্রতিক সীমান্ত টহল ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সরাসরি প্রতিক্রিয়া। এটি সীমান্তে “কৌশলগত শক্তি প্রদর্শন”-এর বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের পর ভারতও সীমান্ত জুড়ে “মিরর মুভ” করেছে — অর্থাৎ পাকিস্তানের প্রস্তুতির সমানতালে সেনা, অস্ত্র ও নজরদারি ব্যবস্থার শক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের অতিরিক্ত বাহিনী টহল দিচ্ছে। সীমান্তবর্তী গ্রামাঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখছে এবং জরুরি পরিষেবা সক্রিয় করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক আধিকারিকের কথায়, “ভারত শান্তি চায়, কিন্তু সীমান্ত সুরক্ষায় কোনো রকম ঢিলেমি হবে না।”
বিশ্লেষকদের ধারণা, পাকিস্তানের এই আগ্রাসী অবস্থানের পেছনে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিই মূল কারণ—
•জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধির পর ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করেছে, যাতে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
•ভারতের অভিযানের জবাব দিতে পাকিস্তান, সীমান্তে সেনা ও ভারী অস্ত্রের উপস্থিতি বাড়িয়েছে।
•সীমান্তে চলতে থাকা গোলাবর্ষণ ও ড্রোন নজরদারি উভয় পক্ষেরই ক্রমশ বাড়ছে।
শিয়ালকোট ও জম্মু সীমান্তের কাছাকাছি গ্রামগুলিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাসিন্দাদের অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছেন। স্থানীয় স্কুল ও বাজার প্রায় ফাঁকা।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাতের দিকেও ভারী গাড়ির শব্দ শোনা যাচ্ছে। সবাই ভয় পাচ্ছে যে, আবার যুদ্ধ লেগে না যায়।”
এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সামান্য ভুল পদক্ষেপই বৃহত্তর সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে।
জাতিসংঘের এক পর্যবেক্ষক জানিয়েছেন, “উভয় পক্ষেরই উচিত সংযম বজায় রাখা ও কূটনৈতিক পথে সমস্যা সমাধান করা। সীমান্তে নতুন সংঘর্ষ দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।”

সিয়ালকোট থেকে শুরু হওয়া এই সামরিক মোতায়েন ভারত-পাক সম্পর্ককে নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। দুই দেশই এখন প্রস্তুত অবস্থায়, কিন্তু কূটনৈতিক মহল জোর দিচ্ছে সংলাপ ও সংযমের ওপর।
সীমান্তে উত্তেজনার এই ছায়া সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিমধ্যেই ভয়, অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের আবহ তৈরি করেছে।

