
ক্যানিংয়ের তালদি গ্রামের সাধারণ এক পরিবারে জন্ম সায়ন নস্করের। বাবা সুব্রত নস্করের ছোট পান-বিড়ির দোকান আর মা রিনা নস্কর আশাকর্মী। আর্থিক টানাপড়েনের মধ্যেও এই তরুণের সাফল্য আজ গোটা রাজ্যের গর্ব। চলতি বছর আইটিআই পরীক্ষায় তিনি পেয়েছেন পূর্ণ ৬০০-র মধ্যে ৬০০ নম্বর। এই কৃতিত্বের জন্যই সারা দেশের মধ্যে নির্বাচিত ৪৬ জন কৃতী ছাত্রের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন সায়ন।
পূর্ব ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত এই ছাত্রের জীবনযাত্রা সহজ নয়। ভাঙাচোরা একচালা বাড়িতে বড় হওয়া সায়নের সাফল্যের পেছনে রয়েছে অসীম পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ষাট শতাংশের বেশি নম্বর পেলেও তিনি থেমে থাকেননি। কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের আগ্রহে আইটিআই-তে কম্পিউটার অপারেটর ট্রেডে ভর্তি হন এবং অদম্য প্রচেষ্টায় অর্জন করেন দেশের সেরা ফলাফল।
বাড়িতে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার না থাকলেও স্কুলের সুযোগই ছিল তাঁর শেখার একমাত্র পথ। তবু একাগ্রতা আর অধ্যবসায়ের জোরে তিনি প্রমাণ করেছেন, সুযোগ না থাকলেও ইচ্ছাশক্তি থাকলে সাফল্য ধরা দেয়। এখন সায়নের লক্ষ্য আরও বড়। প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি এবং ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার ইচ্ছে রয়েছে।
সায়নের পরিবারের পাশে রয়েছেন এক বিশেষভাবে সক্ষম দাদা, যাঁর দেখভালের দায়িত্বও তিনি নিতে চান। অবসর সময়ে ক্রিকেট আর গানই তাঁর সঙ্গী, কিন্তু আপাতত জীবনের মূল লক্ষ্য নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা এবং পরিবারের ভরসার জায়গা হয়ে ওঠা।
ক্যানিংয়ের ছোট গ্রাম বয়ারসিং আজ গর্বে উজ্জ্বল সায়নের নাম শুনে। এই সাফল্য শুধু এক ছাত্রের নয়, বরং প্রমাণ যে প্রতিকূলতার মধ্যেও জেদ আর পরিশ্রম থাকলে গ্রামবাংলার ছেলেও পৌঁছতে পারে জাতীয় মঞ্চে।
