
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বাড়ছে উত্তেজনা। যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পরই ইসলামাবাদে বসবাসকারী আফগান নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আর কোনওভাবে আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় না পাকিস্তান। ফলে নতুন করে শরণার্থী সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
সরকারি সূত্রে খবর, খাইবার পাখতুনখোয়া সহ একাধিক অঞ্চলে থাকা আফগান শরণার্থীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পেশোয়ার, ডি খান, ট্যাঙ্ক, চারসাড্ডা, লক্কি মারওয়াত এবং মালাকান্দ এলাকার শিবিরগুলি বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এমনকি স্থানীয় পাক নাগরিকদেরও জানানো হয়েছে, আফগানদের আর বাড়ি বা দোকান ভাড়া দেওয়া যাবে না। শরণার্থী পরিচয়পত্রের মেয়াদও আর বাড়ানো হবে না বলে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পাকিস্তানে আফগান শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৩ লক্ষ। এর মধ্যে অনেকে বহু বছর ধরে সেখানেই বসবাস করছেন, অনেকেই পাকিস্তানেই জন্মেছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। সীমান্তে সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় আফগানিস্তানে ফিরে যাওয়া নিয়েও ভয় পাচ্ছেন অনেকেই।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। কারণ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক বহুদিন ধরেই টানাপোড়েনপূর্ণ। এবার খোলাখুলি সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইতিমধ্যেই সীমান্ত বরাবর হামলার অভিযোগ তুলেছে কাবুল, অন্যদিকে ইসলামাবাদ বলছে, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তারা কড়া অবস্থান নেবে। ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের এই দ্বন্দ্বই এখন নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে বিশ্ব রাজনীতিতে।
